Skip to main content

387 | Sagittarius A* - Supermassive Black Hole

মহাবিশ্ব ও সৃষ্টিজগত​

Sagittarius A — মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রে এক Supermassive Black Hole


মিল্কিওয়ে Galaxy-এর কেন্দ্রস্থলে রয়েছে এমন এক মহাজাগতিক বস্তু - যার মহাকর্ষীয় প্রভাব পুরো Galaxy-এর গতিশীলতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। এর নাম Sagittarius A* বা Sgr A*—একটি Supermassive Black Hole।

  • পৃথিবী থেকে প্রায় ২৬,০০০ আলোকবর্ষ দূরে মিল্কিওয়ের কেন্দ্রে অবস্থিত এই Black Hole-এর ভর প্রায় ৪০ লক্ষ সূর্যের সমান। এত বিপুল ভর একটি অত্যন্ত ক্ষুদ্র মহাজাগতিক অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত থাকায় এর চারপাশে সৃষ্টি হয়েছে প্রবল মহাকর্ষীয় ক্ষেত্র। এর প্রভাবে Galaxy-এর কেন্দ্রের নিকটবর্তী অসংখ্য নক্ষত্র অত্যন্ত দ্রুত গতিতে প্রদক্ষিণ করে।

  • Black Hole-এর নাম শুনলে মনে হতে পারে, এটি যেন মহাকাশের একটি বিশাল Vacuum Cleaner, যা আশপাশের সবকিছু টেনে নিয়ে যায়। কিন্তু বাস্তবতা তা নয়। Black Hole-ও মহাকর্ষের নিয়ম অনুসরণ করে। দূর থেকে এর মহাকর্ষীয় প্রভাব একই ভরের অন্য কোনো বস্তুর তুলনায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেশি নয়। তবে এর খুব কাছাকাছি গেলে মহাকর্ষীয় প্রভাব অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে ওঠে। কোনো বস্তু যথেষ্ট কাছে চলে গেলে এবং Event Horizon অতিক্রম করলে তা আর বাইরে ফিরে আসতে পারে না।

  • Black Hole-এর Event Horizon-এর ভেতর থেকে আলো বের হতে পারে না। কিন্তু এর আশপাশের উত্তপ্ত পদার্থ থেকে বিকিরণ নির্গত হতে পারে। বিজ্ঞানীরা সেই বিকিরণ এবং কাছাকাছি নক্ষত্রগুলোর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে Sagittarius A* সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেছেন। ২০২২ সালে Event Horizon Telescope সহযোগিতা প্রথমবারের মতো Sagittarius A*-এর ছায়া ও তার চারপাশের উজ্জ্বল বিকিরণের ছবি প্রকাশ করে।
    এটি আমাদের দেখায়, মহাবিশ্বের কোনো বস্তু সরাসরি দেখা না গেলেও তার প্রভাব ও চারপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করে তার অস্তিত্ব সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব।


পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:​

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

সূরা আলে ইমরান, ৩:১৯০
“নিশ্চয়ই আসমানসমূহ ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের পরিবর্তনে বোধশক্তিসম্পন্ন লোকদের জন্য নিদর্শন রয়েছে।”

➡️ এই আয়াত মানুষকে আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে আহ্বান জানায়।
মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রের Sagittarius A* এই চিন্তার একটি বিস্ময়কর উদাহরণ হতে পারে। পৃথিবী থেকে প্রায় ২৬,০০০ আলোকবর্ষ দূরে মিল্কিওয়ের কেন্দ্রে রয়েছে একটি Supermassive Black Hole, যার ভর প্রায় ৪০ লক্ষ সূর্যের সমান। এটি নিজে আলো ছড়ায় না, তাই সরাসরি দেখা যায় না। কিন্তু এর প্রবল মহাকর্ষীয় প্রভাবের কারণে এর আশপাশের নক্ষত্রগুলোর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানীরা এর অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।

সূরা আলে ইমরান ৩:১৯০ আয়াত আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আসমানসমূহ ও পৃথিবীর সৃষ্টি নিজেই চিন্তা ও উপলব্ধির জন্য নিদর্শন। তাই মিল্কিওয়ের বিশালতা, তার কেন্দ্রের অদৃশ্য Black Hole, তার চারপাশে নক্ষত্রগুলোর গতি এবং সমগ্র Galaxy-এর মহাজাগতিক বিন্যাসের দিকে তাকালে একজন মুমিন সৃষ্টির অসাধারণত্ব নিয়ে চিন্তা করতে পারেন।

এখানে আয়াতটির উদ্দেশ্য Black Hole-এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়া নয়। বরং আয়াতটি মানুষের চিন্তা, পর্যবেক্ষণ ও উপলব্ধির দরজা খুলে দেয়। আধুনিক Astronomy আমাদের সেই আকাশের এমন কিছু দিক দেখাচ্ছে, যা প্রাচীন মানুষ কল্পনাও করতে পারেনি।

মহাবিশ্ব যত বিশাল, মানুষের জ্ঞান তার তুলনায় ততই সীমিত। আর সেই বিশাল সৃষ্টিজগতের প্রতিটি নতুন আবিষ্কার মানুষকে আরও গভীরভাবে ভাবতে শেখায়। মিল্কিওয়ের কেন্দ্রে থাকা অদৃশ্য মহাশক্তি তাই শুধু একটি বৈজ্ঞানিক বিস্ময় নয়; এটি আকাশের সৃষ্টিকে নিয়ে চিন্তা করার একটি সুযোগ।


মিল্কিওয়ে Galaxy-এর কেন্দ্রে অবস্থিত Sagittarius A* Black Hole-এর বিপুল ভর, প্রবল মহাকর্ষীয় প্রভাব এবং তার চারপাশের নক্ষত্রগুলোর গতিবিধি নিয়ে একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে মহাবিশ্বের এক বিস্ময়কর দিক আমাদের সামনে ফুটে ওঠে। মহাবিশ্বের এই বিশালতা, জটিলতা ও অজানা রহস্য আমাদের মহান আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে এবং তাঁর অসীম জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও কুদরত স্মরণ করতে অনুপ্রাণিত করে।

আসুন, মহাবিশ্বের অজানা রহস্য সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নিজেদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতাও উপলব্ধি করি। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টির নিদর্শন নিয়ে চিন্তা করি, আল্লাহর দেওয়া বোধশক্তির জন্য কৃতজ্ঞ থাকি এবং তাঁর মহিমা স্মরণ করি।

♥️ সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর, যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং অসংখ্য নিয়ামত দান করেছেন।


Ask | প্রশ্ন করুন