Skip to main content

434 | কান ও শ্রবণব্যবস্থা

কান ও শ্রবণব্যবস্থা — মহান আল্লাহর বিস্ময়কর সৃষ্টি


মানুষের কানের ভেতরে থাকা তিনটি ক্ষুদ্রতম অস্থি (Malleus, Incus, Stapes) এবং ককলিয়া (Cochlea) শব্দ তরঙ্গকে তড়িৎ সংকেতে রূপান্তরিত করে মস্তিষ্কে পাঠায়। ককলিয়ার ভেতরে থাকা হাজার হাজার সূক্ষ্ম হেয়ার সেল (Hair Cells) নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কের শব্দকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আলাদা করতে পারে।

শব্দের তীব্রতা ও দিক নির্ধারণের জন্য দু'টি কান একসাথে কাজ করে, যা মানুষকে সামান্যতম শব্দের উৎসও নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে সাহায্য করে। মানবদেহের এই জটিল ও ক্ষুদ্র শ্রবণব্যবস্থা কোনো কৃত্রিম মাইক্রোফোনের চেয়েও বহু গুণ বেশি স্পর্শকাতর ও স্বয়ংক্রিয়।

জীবনভর অবিরত কাজ করে যাওয়া এই নিখুঁত নকশা কি কেবলই এক আকস্মিক ঘটনা, নাকি পরম করুণাময় স্রষ্টার এক অসীম প্রজ্ঞা ও কুদরত?

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন —​

সূরা আল-মুলক, ৬৭:২৩

  • “বলুন, তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও অন্তঃকরণ। তোমরা খুব অল্পই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।”

➡️ এই আয়াতে মহান আল্লাহ মানুষকে তাঁর দেওয়া শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও উপলব্ধির নেয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন এবং এসব নেয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। কানের ক্ষুদ্র অঙ্গগুলোর সমন্বয়ে শব্দ গ্রহণ, সংকেতে রূপান্তর এবং মস্তিষ্কে তা উপলব্ধি করার এই সূক্ষ্ম ব্যবস্থা মহান আল্লাহর সৃষ্টি-কুশলতা, প্রজ্ঞা ও অসীম কুদরতের এক বিস্ময়কর নিদর্শন।

💎 সুবহানাল্লাহ!


✨ আমরা যখন আমাদের শ্রবণব্যবস্থার এই সূক্ষ্ম কার্যপ্রণালি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করি, তখন বিস্মিত না হয়ে পারি না। বাইরের শব্দ সংগ্রহ করা, তার কম্পন ভেতরের কানে পৌঁছে দেওয়া, ককলিয়ায় সেই কম্পনকে স্নায়বিক সংকেতে রূপান্তর করা এবং মস্তিষ্কে তার অর্থবোধক উপলব্ধি সৃষ্টি হওয়া, সবকিছুই এক অসাধারণ সমন্বিত প্রক্রিয়ার অংশ। মহান আল্লাহ আমাদের যে শ্রবণশক্তির নেয়ামত দান করেছেন, তা শুধু তাঁর সৃষ্টির অপূর্ব নিদর্শনই নয়, বরং এই নেয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞ হওয়ারও এক গভীর আহ্বান। ✨↓