Skip to main content

522 | শিশুর ভাষা ( A Child’s Ability to Learn Language)

শিশুর ভাষা শেখার ক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি
A Child’s Ability to Learn Language and Develop Memory


একটি নবজাতক শিশু পৃথিবীতে আসে কোনো ভাষা জানা ছাড়াই। সে কথা বলতে পারে না, পড়তে পারে না, এমনকি নিজের প্রয়োজনও ভাষার মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারে না।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই সেই শিশু শব্দ চিনতে শেখে, মানুষের কথা বুঝতে শেখে, বাক্য গঠন করে এবং নিজের চিন্তা ও অনুভূতি প্রকাশ করতে শুরু করে।
একই সঙ্গে সে তার চারপাশের মানুষ, ঘটনা ও অভিজ্ঞতাগুলো স্মৃতিতে ধারণ করতে থাকে।

একবার ভাবুন, জন্মের সময় যে শিশু কিছুই বলতে পারত না, সেই শিশুই একদিন অসংখ্য শব্দ ব্যবহার করে নিজের মনের কথা প্রকাশ করে! কী অসাধারণ এক ব্যবস্থা!

এটি মানবজীবনের অন্যতম বিস্ময়কর ক্ষমতা। জন্মের সময় শিশুর মস্তিষ্কে প্রায় ৮৬ বিলিয়ন স্নায়ুকোষ (Neurons) থাকে। জীবনের প্রথম কয়েক বছরে এই কোষগুলোর মধ্যে দ্রুত অসংখ্য নতুন সংযোগ (Synapses) তৈরি হয়। শিশুর দেখা, শোনা, স্পর্শ করা এবং প্রতিদিনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তার মস্তিষ্কের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ভাষা শেখার ক্ষমতা বিশেষভাবে বিস্ময়কর। একটি শিশু তার চারপাশের মানুষের কথা শুনে ধীরে ধীরে শব্দ, উচ্চারণ এবং বাক্য গঠনের নিয়ম শিখে ফেলে। তাকে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাকরণ শেখায় না, তবুও সে নিজে নিজেই ভাষার জটিল কাঠামো আয়ত্ত করতে শুরু করে। পৃথিবীর যেকোনো ভাষা শেখার এই অসাধারণ জন্মগত সামর্থ্য আল্লাহ মানুষের মধ্যে দান করেছেন।

একইভাবে স্মৃতিশক্তিও মানুষের এক অনন্য নিয়ামত। শিশু ধীরে ধীরে মায়ের মুখ চিনতে শেখে, পরিচিত কণ্ঠস্বর মনে রাখে, নতুন অভিজ্ঞতা স্মৃতিতে জমা করে এবং সেগুলো থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। এই স্মৃতিই পরবর্তীতে তার জ্ঞান, দক্ষতা ও ব্যক্তিত্ব গঠনের ভিত্তি তৈরি করে।


পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:​

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

সূরা আর-রাহমান (৫৫:৩–৪)
“তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। তিনিই তাকে ভাব প্রকাশ করতে (বক্তব্য প্রকাশ করতে) শিখিয়েছেন।”

➡️ এই আয়াতে আল্লাহ মানুষের দুটি বিশেষ নিয়ামতের কথা একসঙ্গে উল্লেখ করেছেন—প্রথমত মানুষকে সৃষ্টি করা এবং দ্বিতীয়ত তাকে ভাব প্রকাশের ক্ষমতা দান করা।

একটি নবজাতক শিশু জন্মের সময় কোনো ভাষা জানে না। কিন্তু আল্লাহ তার মধ্যে এমন এক অসাধারণ সামর্থ্য দিয়ে সৃষ্টি করেছেন যে, সে ধীরে ধীরে শব্দ শেখে, অর্থ বোঝে, বাক্য গঠন করে এবং নিজের চিন্তা ও অনুভূতি প্রকাশ করতে শেখে।
পৃথিবীতে হাজারো ভাষা রয়েছে। প্রতিটি ভাষার শব্দ, উচ্চারণ ও বাক্য গঠনের নিয়ম আলাদা।
অথচ একটি শিশু যে পরিবেশে বেড়ে ওঠে, সেই পরিবেশের ভাষা শুনে ধীরে ধীরে তা আয়ত্ত করতে পারে।

“তাকে ভাব প্রকাশ করতে শিখিয়েছেন”—এই কথার মধ্যে শুধু কথা বলা নয়, বরং মানুষের চিন্তা প্রকাশ, জ্ঞান আদান-প্রদান, লেখা, শেখানো এবং অন্যের সঙ্গে যোগাযোগের অসাধারণ ক্ষমতাও অন্তর্ভুক্ত।

⸻

সূরা আন-নাহল (১৬:৭৮)
“আর আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মায়েদের গর্ভ থেকে বের করেছেন এমন অবস্থায় যে, তোমরা কিছুই জানতে না। আর তিনি তোমাদেরকে শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও অন্তর দিয়েছেন, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।”

➡️ এই আয়াতে আল্লাহ আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, মানুষ জন্মের সময় কোনো অর্জিত জ্ঞান নিয়ে পৃথিবীতে আসে না। সে ধীরে ধীরে শেখে, বোঝে এবং জ্ঞান অর্জন করে।
আল্লাহ মানুষের জন্য শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি এবং অন্তর দিয়েছেন। শিশুর ভাষা শেখার ক্ষেত্রে শ্রবণশক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে মানুষের কথা শুনে শব্দ ও উচ্চারণ চিনতে শেখে।
দৃষ্টিশক্তির মাধ্যমে চারপাশের মানুষ ও পরিবেশকে চিনতে শেখে। আর মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে সে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করে, স্মৃতি গড়ে তোলে এবং অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে।

এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, শেখার ক্ষমতা মানুষের নিজের তৈরি কোনো বিষয় নয়; বরং এটি আল্লাহর দেওয়া এক অসাধারণ নিয়ামত। তিনি মানুষকে এমন এক মস্তিষ্ক দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, যা জন্মের পর ধীরে ধীরে ভাষা, জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও স্মৃতির এক বিস্ময়কর ভাণ্ডারে পরিণত হয়।


🌸 একটু ভেবে দেখুন!

একটি শিশু যখন প্রথমবার “মা” বা “বাবা” বলে ডাকে, তখন আমরা হয়তো শুধু একটি ছোট্ট শব্দ শুনি।
কিন্তু সেই শব্দের পেছনে রয়েছে কত বিস্ময়কর বিষয়!

  • মানুষের কণ্ঠস্বর শোনার ক্ষমতা।
  • শব্দের পার্থক্য চিনতে পারার ক্ষমতা।
  • শব্দের অর্থ বুঝতে শেখার ক্ষমতা।
  • স্মৃতিতে নতুন তথ্য সংরক্ষণ করার ক্ষমতা।
  • চিন্তা ও অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার ক্ষমতা।

জন্মের সময় যে শিশু কিছুই জানত না, সেই শিশুই ধীরে ধীরে ভাষা শিখছে, স্মৃতি গড়ছে, জ্ঞান অর্জন করছে এবং নিজের ভাব প্রকাশ করতে শিখছে।


🤲 এত সুন্দর ও সুসমন্বিত এই শেখার ব্যবস্থা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানুষের সৃষ্টি কত অসাধারণ এবং আমাদের স্রষ্টা আল্লাহর জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও সৃষ্টিশক্তি কত অসীম! আমরা যেন এই নিয়ামতগুলোর যথাযথ ব্যবহার করি, সন্তানদের সুন্দর ভাষা, ভালো শিক্ষা ও উত্তম চরিত্র শেখাই এবং সবকিছুর জন্য মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকি। 🤲


♥️ সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর, যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং অসংখ্য নিয়ামত দান করেছেন।


Ask | প্রশ্ন করুন