Skip to main content

442 | দান ও সামাজিক দায়বদ্ধতা

দান ও সামাজিক দায়বদ্ধতা — মহান আল্লাহর সুনির্দিষ্ট হেদায়েত


মানুষের জীবনের অন্যতম বড় প্রশ্ন হলো—নিজের উপার্জিত ধন-সম্পদ কীভাবে ও কার পেছনে ব্যয় করা উচিত? মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে মহান আল্লাহ এর অত্যন্ত স্পষ্ট ও পর্যায়ক্রমিক রূপরেখা প্রদান করেছেন। দানের ক্ষেত্রে প্রথমে নিজের মা-বাবা, নিকটাত্মীয়, এতিম, অসহায় ও মুসাফিরদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক ভারসাম্য ও পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় রাখার জন্য এই নির্দেশনা এক অপরিসীম হেদায়েত। কাছের মানুষদের সহায়তার মাধ্যমে সমাজে অভাব দূর হয় এবং পরোক্ষভাবে সুশৃঙ্খল এক সামাজিক নিরাপত্তা বলয় তৈরি হয়। কুরআনের এই শিক্ষা মানুষকে শুধু নিজের জন্য সম্পদ সঞ্চয় করতে শেখায় না, বরং নিজের সামর্থ্যের মধ্যে অন্যের প্রয়োজনের প্রতিও সচেতন হতে শেখায়।

মানুষের তৈরি কোনো সমাজকল্যাণ ব্যবস্থা কি কোনো প্রতিদান ছাড়া কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিজ পরিবার ও সমাজের অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর এমন নিখুঁত ও স্থায়ী প্রেরণা দিতে পারে? আমাদের প্রতিটি ছোট-বড় সৎকাজ ও নিভৃত দান যে মহান আল্লাহর অগোচরে থাকে না, তা অনুধাবন করা মানুষের অন্তরে এক পরম প্রশান্তি এনে দেয়।

দান ও পরোপকারের এই সুবিন্যস্ত শিক্ষা কি মহান স্রষ্টার অসীম দয়া, সামাজিক প্রজ্ঞা ও হেদায়েতের প্রতি গভীরভাবে ভাবার আহ্বান জানায় না?

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:​

সূরা আল-বাকারা, ২:২১৫

  • “ [ হে মুহাম্মদ ] লোকেরা আপনাকে জিজ্ঞেস করছে, তারা কী ব্যয় করবে? বলুন, তোমরা যে অর্থই ব্যয় করো না কেন, তা পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, এতিম, মিসকিন ও মুসাফিরদের জন্য। আর যে সৎকাজই তোমরা করবে, নিশ্চয় আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবগত।”

➡️ এই আয়াতে মহান আল্লাহ সম্পদ ব্যয়ের ক্ষেত্রে মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন, এতিম, মিসকিন ও মুসাফিরদের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে আয়াতের শেষে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে মানুষের কোনো সৎকর্মই মহান আল্লাহর অজানা নয়। দান, পারিবারিক দায়িত্ব ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই শিক্ষা মহান আল্লাহর দয়া, প্রজ্ঞা ও কল্যাণময় হেদায়েতের এক সুন্দর নিদর্শন।

💎 সুবহানাল্লাহ!


সম্পদের প্রকৃত মূল্য শুধু তা অর্জন বা সঞ্চয় করার মধ্যে নয়; বরং তা কীভাবে নিজের দায়িত্ব পালন এবং অন্যের কল্যাণে ব্যয় করা হচ্ছে, তার মধ্যেও নিহিত। মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন, এতিম, মিসকিন ও মুসাফিরদের প্রতি দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মহান আল্লাহ আমাদের সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ ও পরোপকারের শিক্ষা দিয়েছেন। মানুষের প্রয়োজনের প্রতি সচেতন হওয়া এবং আন্তরিকভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া পরিবার ও সমাজে ভালোবাসা ও পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধনকে দৃঢ় করে।

আসুন, নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী অন্যের পাশে দাঁড়াই, দানের ক্ষেত্রে আন্তরিকতা বজায় রাখি এবং মানুষের কল্যাণে সম্পদ ব্যয় করার সুযোগকে মহান আল্লাহর দেওয়া একটি নেয়ামত হিসেবে দেখি। মনে রাখি, মানুষের চোখের আড়ালে করা সৎকাজও মহান আল্লাহর অজানা নয়। তাঁর সন্তুষ্টির আশায় দান করি এবং আমাদের সম্পদকে কল্যাণের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করি। 🤲