Skip to main content

483 | পর্যায় সারণি (Periodic Table)

Periodic Table — মৌলগুলোর বিন্যাসে মহান আল্লাহর সৃষ্টির বিস্ময়


আমাদের চারপাশের সবকিছু—বাতাস, পানি, মাটি, গাছপালা, পাথর, এমনকি আমাদের শরীরও—বিভিন্ন রাসায়নিক মৌল (Chemical Elements) দিয়ে গঠিত। এসব মৌলের মধ্যে রয়েছে Hydrogen, Oxygen, Carbon, Nitrogen, Iron, Calcium এবং আরও অনেক মৌল। বিজ্ঞানীরা এসব মৌলকে তাদের পারমাণবিক বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী একটি বিশেষ ছকে সাজিয়েছেন। এই ছকের নাম Periodic Table বা পর্যায় সারণি। এটি রসায়নবিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার, যার মাধ্যমে মৌলগুলোর বৈশিষ্ট্য, পারস্পরিক সম্পর্ক এবং তাদের আচরণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

🔸 Periodic Table কী?

বর্তমানে স্বীকৃত Periodic Table-এ মোট ১১৮টি মৌল রয়েছে। প্রতিটি মৌলের নিজস্ব নাম, প্রতীক (Symbol) এবং পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic Number) রয়েছে। যেমন—

  • Hydrogen (H): পারমাণবিক সংখ্যা ১।
  • Carbon (C): পারমাণবিক সংখ্যা ৬।
  • Oxygen (O): পারমাণবিক সংখ্যা ৮।
  • Iron (Fe): পারমাণবিক সংখ্যা ২৬।
  • Calcium (Ca): পারমাণবিক সংখ্যা ২০। কোনো মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা নির্ধারিত হয় তার পরমাণুর নিউক্লিয়াসে থাকা Proton-এর সংখ্যা দিয়ে। এই সংখ্যা অনুযায়ী মৌলগুলোকে সাজালে তাদের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে নিয়মিত পুনরাবৃত্তি বা Periodicity দেখা যায়। এ কারণেই এই ছককে Periodic Table বলা হয়।

🔸 একই মৌল, অথচ কত বিচিত্র ব্যবহার!

Carbon আমাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং জীবনের পরিচিত রসায়নের ভিত্তি। Oxygen শ্বাস-প্রশ্বাস ও শক্তি উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। Iron রক্তের Hemoglobin-এর একটি অপরিহার্য উপাদান, আর Calcium হাড় ও দাঁতের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আবার Sodium ও Chlorine একত্রে Sodium Chloride বা সাধারণ খাবার লবণ তৈরি করে। অথচ বিশুদ্ধ Sodium একটি অত্যন্ত সক্রিয় ধাতু এবং Chlorine একটি বিষাক্ত গ্যাস। তাদের রাসায়নিক বন্ধনের ফলে তৈরি যৌগের বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে। অর্থাৎ, মৌলগুলোর পরিচয়, গঠন এবং পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ধরন পদার্থের বৈচিত্র্য সৃষ্টি করে। এই বৈচিত্র্যের নিয়মগুলো বুঝতে Periodic Table আমাদের অসাধারণ সহায়তা করে।

🔸 মহাবিশ্বের উপাদান ও আমাদের অস্তিত্ব

আমাদের শরীরের Carbon, Oxygen, Calcium ও Iron-এর মতো মৌলগুলোর অনেকগুলোই মহাবিশ্বের নক্ষত্রে সংঘটিত বিভিন্ন পারমাণবিক প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়েছে। Hydrogen-এর মতো কিছু মৌল মহাবিশ্বের একেবারে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই বিদ্যমান। এসব মৌলের ইতিহাস আমাদের পৃথিবী ও মহাবিশ্বের সঙ্গে মানুষের উপাদানগত সম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। একটি ক্ষুদ্র পরমাণুর ভেতরে Proton, Neutron ও Electron-এর বিন্যাস, মৌলগুলোর রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য এবং তাদের পারস্পরিক বিক্রিয়া—সব মিলিয়ে পদার্থজগতের এক বিশাল বৈচিত্র্য গড়ে উঠেছে। বিজ্ঞানীরা পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে এই নিয়মগুলো আবিষ্কার ও ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন।


পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:​

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

সূরা আলে ইমরান, ৩:১৯০ (আয়াতের অংশবিশেষ)

  • “নিশ্চয়ই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের পরিবর্তনে বোধশক্তিসম্পন্ন লোকদের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে।”

➡️ এই আয়াত আমাদের আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা করতে আহ্বান জানায়। Periodic Table নিজে কুরআনের কোনো বৈজ্ঞানিক ছক নয়; এটি মানুষের গবেষণার মাধ্যমে তৈরি একটি বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থা। তবে মৌলগুলোর নিয়মিত বৈশিষ্ট্য, পদার্থের বিস্ময়কর বৈচিত্র্য এবং আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে এসব উপাদানের সম্পর্ক নিয়ে ভাবতে গিয়ে আমরা সৃষ্টিজগতের গভীরতা উপলব্ধি করতে পারি।


যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন, তিনিই আমাদের চারপাশের এই বিশাল সৃষ্টিজগতের স্রষ্টা। জ্ঞান অর্জন ও গবেষণার মাধ্যমে আমরা সৃষ্টির নিয়ম যত বেশি জানতে পারি, ততই আমাদের সামনে চিন্তা ও উপলব্ধির নতুন নতুন দ্বার খুলে যায়। আমরা যে বাতাসে শ্বাস নিই, যে পানি পান করি, যে খাবার খাই এবং যে উপাদান দিয়ে আমাদের শরীর গঠিত—এসবের পেছনে রয়েছে মৌল ও রাসায়নিক যৌগের এক বিস্ময়কর জগৎ। Periodic Table সেই জগতের নিয়ম বুঝতে আমাদের সাহায্য করে। এত বৈচিত্র্যময় পদার্থের জগৎ, তাদের নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য এবং পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে চিন্তা করলে মহান আল্লাহর সৃষ্টি, জ্ঞান ও প্রজ্ঞার কথা স্মরণ হয়। এই জ্ঞান যেন আমাদের অহংকারী না করে; বরং স্রষ্টাকে চিনতে, তাঁর নিয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞ হতে এবং জ্ঞানকে কল্যাণের কাজে ব্যবহার করতে অনুপ্রাণিত করে।

💎 সুবহানাল্লাহ!


Periodic Table নিয়ে একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে পদার্থজগতের এক বিস্ময়কর নিয়ম ও বৈচিত্র্য আমাদের সামনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মাত্র ১১৮টি স্বীকৃত মৌলের ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্য এবং তাদের পারস্পরিক সংযোগের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে আমাদের পরিচিত পদার্থজগৎ। আমাদের শরীর, পানি, বাতাস, মাটি ও অসংখ্য বস্তুতে থাকা এসব মৌলের বৈশিষ্ট্য ও আচরণ নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে আমরা সৃষ্টিজগতের গভীরতা সম্পর্কে জানতে পারি। মৌলগুলোর এই সুশৃঙ্খল বিন্যাস ও বৈচিত্র্য আমাদের মহান আল্লাহর সৃষ্টি-কুশলতা, অসীম জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও কুদরত স্মরণ করার সুযোগ করে দেয়।

আসুন, সৃষ্টিজগতের রহস্য জানার আগ্রহকে জ্ঞান অর্জন ও সৎকাজের পথে কাজে লাগাই। মহান আল্লাহর দেওয়া বুদ্ধি ও চিন্তাশক্তির জন্য কৃতজ্ঞ হই এবং তাঁর সৃষ্টির নিদর্শনগুলো নিয়ে গভীরভাবে ভাবি। যত বেশি জানব, ততই যেন আমাদের মনে বিনয়, কৃতজ্ঞতা ও স্রষ্টার প্রতি দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি পায়।

♥️ সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর, যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং অসংখ্য নিয়ামত দান করেছেন।


Ask | প্রশ্ন করুন