Skip to main content

468 | হাত

হাত — মহান আল্লাহর অসীম প্রজ্ঞার এক নিদর্শন


আমরা প্রতিদিন হাত দিয়ে কত কাজ করি, কিন্তু খুব কমই ভেবে দেখি এই হাতের ভেতরে কত সূক্ষ্ম ব্যবস্থা একসঙ্গে কাজ করছে। একটি কলম ধরা, বইয়ের পাতা উল্টানো, জামার বোতাম লাগানো, খাবার মুখে তোলা, ভারী কিছু বহন করা কিংবা খুব ছোট একটি বস্তু আঙুল দিয়ে তুলে নেওয়া, একই হাত দিয়ে আমরা কত ভিন্ন ধরনের কাজ করতে পারি!

মানুষের একেকটি হাতে রয়েছে ২৭টি হাড়। এই ছোট ছোট হাড় বিভিন্ন সন্ধি বা joint-এর মাধ্যমে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। পেশি ও tendon-এর সাহায্যে আঙুলগুলো বাঁকানো, সোজা করা এবং বিভিন্ন দিকে নিয়ন্ত্রিতভাবে নড়ানো সম্ভব হয়।

কিন্তু শুধু নড়াচড়া করলেই তো যথেষ্ট নয়।

হাতের ত্বকে রয়েছে অসংখ্য সংবেদনশীল স্নায়ুপ্রান্ত ও receptor, যা স্পর্শ, চাপ, কম্পন, তাপমাত্রা ও ব্যথা সম্পর্কিত তথ্য স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পাঠায়। ফলে আমরা কোনো বস্তু স্পর্শ করলে তার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা পাই এবং সেই অনুযায়ী হাতের শক্তি ও নড়াচড়া সামঞ্জস্য করতে পারি।

ভাবুন, একটি কাচের গ্লাস ধরার সময় আমরা সাধারণত এত জোরে চাপ দিই না যে সেটি ভেঙে যায়, আবার এত আলগাভাবেও ধরি না যে সেটি হাত থেকে পড়ে যায়। চোখ, ত্বকের সংবেদন, স্নায়ুতন্ত্র, পেশি ও মস্তিষ্কের সমন্বয়ে আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী হাতের শক্তি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি।

মানুষের হাতের অন্যতম বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য হলো বুড়ো আঙুল। বুড়ো আঙুল অন্য আঙুলগুলোর বিপরীতে এনে কোনো বস্তু ধরতে সাহায্য করে। এর ফলে আমরা যেমন শক্তভাবে কোনো বস্তু ধরতে পারি, তেমনি সূক্ষ্ম কাজও করতে পারি। কলম দিয়ে লেখা, সুই ধরা কিংবা ছোট কোনো বস্তু তোলার মতো কাজে আঙুল ও বুড়ো আঙুলের এই সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিস্ময়কর হলো, হাত নিজে থেকে এসব কাজের সিদ্ধান্ত নেয় না। মস্তিষ্ক থেকে আসা স্নায়বিক সংকেত পেশিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে, আবার হাত থেকে স্পর্শ ও অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য মস্তিষ্কে ফিরে যায়। এই দুইমুখী যোগাযোগের মাধ্যমে হাতের সূক্ষ্ম ও নিয়ন্ত্রিত নড়াচড়া সম্ভব হয়।

হাড়, সন্ধি, পেশি, tendon, স্নায়ু, স্পর্শের অনুভূতি এবং মস্তিষ্কের এত সূক্ষ্ম সমন্বয়ে একটি হাত দিয়ে অসংখ্য কাজ করার এই বিস্ময়কর ক্ষমতা কি মহান আল্লাহর অসীম জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও কুদরত নিয়ে গভীরভাবে ভাবার আহ্বান জানায় না?

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:​

সূরা আত-তীন, ৯৫:৪

  • “নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম গঠনে।”

➡️ এই আয়াত মানুষের হাতের শারীরবৃত্তীয় গঠনের সরাসরি বর্ণনা নয়। বরং মহান আল্লাহ মানুষের সামগ্রিক সৃষ্টি ও গঠনের প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। মানুষের হাতের দিকে তাকালেও সেই সৃষ্টির অসাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি উদাহরণ আমরা দেখতে পাই। হাতের ছোট ছোট হাড়, নমনীয় সন্ধি, পেশি ও tendon-এর সমন্বিত নড়াচড়া, স্পর্শ অনুভব করার ক্ষমতা এবং স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ, সবকিছু মিলিয়ে হাত হয়ে উঠেছে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অত্যন্ত কার্যকর একটি অঙ্গ। আমরা হাত দিয়ে লিখি, নির্মাণ করি, খাবার গ্রহণ করি, কোনো কিছু বহন করি, শিশুকে কোলে তুলি এবং অসংখ্য সূক্ষ্ম কাজ সম্পন্ন করি। অথচ এই অসাধারণ নেয়ামতটি আমাদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত থাকার কারণে আমরা অনেক সময় এর গুরুত্ব উপলব্ধিই করি না।

💎 সুবহানাল্লাহ!


একটি ছোট্ট সুই ধরা থেকে শুরু করে ভারী কোনো বস্তু বহন করা পর্যন্ত একই হাত কত বৈচিত্র্যময় কাজ করতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী কখনো শক্তভাবে, আবার কখনো অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে হাতকে ব্যবহার করতে পারা সত্যিই গভীরভাবে চিন্তা করার মতো। আমাদের দুটি হাত শুধু কাজ করার অঙ্গ নয়, বরং মহান আল্লাহর দেওয়া এক অসাধারণ নেয়ামত।
হাতের হাড়, সন্ধি, পেশি, tendon, স্নায়ু, স্পর্শের অনুভূতি এবং মস্তিষ্কের সঙ্গে এর বিস্ময়কর সমন্বয় আমাদের মহান আল্লাহর অসীম জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও কুদরত স্মরণ করিয়ে দেয়। আসুন, প্রতিদিনের কাজে ব্যবহৃত এই অমূল্য নেয়ামতের দিকে একটু মনোযোগ দিয়ে তাকাই, এর জন্য কৃতজ্ঞ হই এবং আমাদের হাতকে ভালো ও কল্যাণকর কাজে ব্যবহার করি। 🤲