Skip to main content

396 | সময়

সময় — মহান আল্লাহর এক অমূল্য নিয়ামত


সময় ও জীবনের মূল্য — মহান আল্লাহর দেওয়া এক অমূল্য সুযোগ মানুষের জীবনে অনেক কিছু হারিয়ে আবার ফিরে পাওয়া সম্ভব। হারানো অর্থ আবার উপার্জন করা যায়, হারিয়ে যাওয়া কোনো জিনিস নতুন করে কেনা যায়, এমনকি জীবনের ভুল থেকেও শিক্ষা নিয়ে নতুনভাবে পথ চলা যায়। কিন্তু যে সময় একবার চলে যায়, তা আর কখনো ফিরে আসে না।

আজকের সকাল, গতকালের বিকেল কিংবা কয়েক বছর আগের কোনো দিন—সবই সময়ের প্রবাহে অতীত হয়ে গেছে। মানুষ ঘুমিয়ে থাকুক কিংবা জেগে থাকুক, আনন্দে থাকুক কিংবা দুঃখে—সময় তার নিজস্ব নিয়মে এগিয়ে চলে। এই সময়ের মধ্য দিয়েই আমাদের শৈশব, যৌবন, পারিবারিক জীবন, স্বপ্ন ও স্মৃতিগুলো গড়ে ওঠে।

সময়কে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়, কিন্তু বর্তমান সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগানো সম্ভব। আমরা চাইলে এই সময়ে ভালো কাজ করতে পারি, নিজের ভুল সংশোধন করতে পারি, মানুষের উপকার করতে পারি এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করতে পারি।

সময় শুধু ঘড়ির কাঁটার চলাচল নয়; সময়ের মধ্যেই আমাদের জীবন অতিবাহিত হয়। তাই সময়ের মূল্য বোঝা মানে জীবনের মূল্য বোঝা।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:​

সূরা আল-আসর, ১০৩:১–৩

  • “সময়ের শপথ!”
    “নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে।”
    “তবে তারা নয়, যারা ঈমান এনেছে, সৎকর্ম করেছে এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দিয়েছে ও পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে।”

➡️ সূরা আল-আসর মাত্র তিনটি আয়াতে মানুষের জীবনের সাফল্য ও ক্ষতির একটি গভীর শিক্ষা তুলে ধরে। এই সূরায় মহান আল্লাহ সময়ের শপথ করে জানিয়েছেন যে, মানুষ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। তবে যারা চারটি গুণ অর্জন করে, তারা এই ক্ষতি থেকে মুক্তির পথ লাভ করে।

  • ঈমান: মহান আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখা এবং সেই বিশ্বাস অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা।
  • সৎকর্ম: ভালো কাজ করা, ইবাদত পালন করা, মানুষের উপকার করা এবং নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা।
  • সত্যের উপদেশ: নিজের জীবনে সত্যকে গ্রহণ করা এবং অন্যদেরও সত্য ও ন্যায়ের পথে চলতে উৎসাহিত করা।
  • ধৈর্যের উপদেশ: জীবনের কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণ করা, সৎপথে অবিচল থাকা এবং একে অপরকে ধৈর্যশীল হতে সাহায্য করা।

এই চারটি গুণ আমাদের শেখায়, জীবনের প্রকৃত সাফল্য শুধু অর্থ-সম্পদ, কর্মজীবনের উন্নতি কিংবা পার্থিব সুখের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ঈমান, সৎকর্ম, সত্য ও ধৈর্যের সঙ্গে জীবন পরিচালনা করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সময় চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জীবনের সুযোগও সীমিত হয়ে আসে। তাই প্রতিটি দিনকে এমনভাবে কাজে লাগানো উচিত, যাতে আমাদের ঈমান দৃঢ় হয়, কাজগুলো কল্যাণকর হয় এবং আমরা সত্য ও ধৈর্যের পথে অবিচল থাকতে পারি।

💎 সুবহানাল্লাহ! মাত্র তিনটি আয়াতে মহান আল্লাহ মানুষের জীবন পরিচালনার জন্য কত গভীর ও অর্থবহ শিক্ষা দিয়েছেন!

সূরা আল-আসরের শিক্ষা আমাদের প্রতিদিনের জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। আমরা প্রায়ই ভবিষ্যতে ভালো কাজ করার পরিকল্পনা করি, কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আজকের সময়কে যথাযথভাবে ব্যবহার করি না। অথচ আজকের একটি সৎকর্ম, সত্য কথা বলা কিংবা কঠিন পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ করা আমাদের জীবনকে অর্থবহ করে তুলতে পারে।


সময়ের মূল্য উপলব্ধি করা মানে শুধু সময় নষ্ট না করা নয়; বরং মহান আল্লাহ আমাদের যে জীবন দিয়েছেন, তা তাঁর সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করা। ঈমান, সৎকর্ম, সত্যের উপদেশ ও ধৈর্যের মাধ্যমে আমরা নিজেদের জীবনকে কল্যাণের পথে এগিয়ে নিতে পারি।

আসুন, মহান আল্লাহর দেওয়া সময় ও জীবনের জন্য কৃতজ্ঞ হই। সূরা আল-আসরের শিক্ষা নিজেদের জীবনে ধারণ করি এবং একে অপরকে সত্য ও ধৈর্যের পথে চলতে উৎসাহিত করি। হে আল্লাহ, আমাদের সময়ে বরকত দান করুন এবং ঈমান, সৎকর্ম, সত্য ও ধৈর্যের সঙ্গে জীবন পরিচালনার তাওফিক দিন। আমিন। 🤲