Skip to main content

469 | পেঁচার রাতের দৃষ্টি

পেঁচার রাতের দৃষ্টি — মহান আল্লাহর সৃষ্টির এক বিস্ময়কর নিদর্শন


রাতের অন্ধকারে যখন মানুষের পক্ষে কোনো প্রাণী দেখা বা তার ক্ষীণ শব্দ শুনে অবস্থান বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে, তখন পেঁচা তার বিশেষ দৃষ্টি ও সংবেদনশীল শ্রবণশক্তির সাহায্যে শিকার শনাক্ত করতে পারে।

পেঁচার চোখ তুলনামূলকভাবে বড় এবং কম আলোতে দেখার উপযোগী। চোখের রেটিনায় থাকা আলোকসংবেদনশীল কোষ অল্প আলো থেকেও তথ্য সংগ্রহ করতে সাহায্য করে। ফলে রাতের স্বল্প আলোতে পেঁচা চারপাশ পর্যবেক্ষণ করতে এবং শিকার শনাক্ত করতে পারে। কিন্তু অন্ধকারে শিকার খুঁজে পাওয়ার বিস্ময় শুধু তার চোখের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

পেঁচার শ্রবণশক্তিও অত্যন্ত সংবেদনশীল। তার মুখের চারপাশে বিশেষভাবে বিন্যস্ত পালক শব্দকে কানের দিকে পরিচালিত করতে সাহায্য করে। ফলে ঘাস, শুকনো পাতা কিংবা অন্য কোনো আড়ালে ছোট প্রাণীর নড়াচড়ার ক্ষীণ শব্দও সে শনাক্ত করতে পারে।

শব্দ দুই কানে পৌঁছানোর সময় ও তীব্রতার সূক্ষ্ম পার্থক্য থেকে পেঁচার মস্তিষ্ক শব্দের উৎসের অবস্থান নির্ণয় করতে সাহায্য করে। কিছু পেঁচার দুই কানের অবস্থান সামান্য অসমান হওয়ায় শব্দের অবস্থান নির্ণয়ে আরও সহায়তা হয়। অর্থাৎ রাতের স্বল্প আলোতে দৃষ্টি ও শ্রবণ একসঙ্গে কাজ করে শিকার সম্পর্কে পেঁচাকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়।

পেঁচার ডানার পালকের বিশেষ গঠন উড্ডয়নের সময় সৃষ্ট শব্দ কমাতে সাহায্য করে। ফলে সে তুলনামূলকভাবে নিঃশব্দে শিকারের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। এতে শিকার যেমন সহজে তার উপস্থিতি টের পায় না।

ভাবুন, চারদিকে গভীর রাতের নীরবতা। নিচে ঘাসের আড়ালে একটি ছোট প্রাণী নড়াচড়া করছে। পেঁচা তার চোখে পাওয়া তথ্য এবং কানে পৌঁছানো ক্ষীণ শব্দের সাহায্যে শিকারের অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর মস্তিষ্ক, চোখ, কান, ডানা ও পায়ের সমন্বয়ে সে নিখুঁতভাবে শিকারের দিকে এগিয়ে যায়।

রাতের স্বল্প আলোতে দেখার ক্ষমতা, ক্ষীণ শব্দ শনাক্ত করা, শব্দের অবস্থান নির্ণয় এবং তুলনামূলক নিঃশব্দে উড়ে শিকারের কাছে পৌঁছানোর এই বিস্ময়কর সমন্বয় কি মহান আল্লাহর অসীম জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও কুদরত নিয়ে গভীরভাবে ভাবার আহ্বান জানায় না?

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:​

সূরা আন-নাহল, ১৬:৭৯

  • “তারা কি আকাশের শূন্যে নিয়ন্ত্রিত পাখিদের দিকে তাকায় না? আল্লাহ ছাড়া কেউই তাদের ধরে রাখেন না। নিশ্চয় এতে ঈমানদার সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে।”

➡️ এই আয়াত পেঁচার রাতের দৃষ্টি বা শ্রবণশক্তির সরাসরি বর্ণনা নয়। বরং মহান আল্লাহ আমাদের পাখিদের দিকে তাকাতে এবং তাদের সৃষ্টির মধ্যে উপস্থিত নিদর্শনগুলো নিয়ে চিন্তা করতে আহ্বান জানিয়েছেন। পেঁচার দিকে তাকালে আমরা দেখি, রাতের পরিবেশে শিকার শনাক্ত করার জন্য তার রয়েছে এক বিস্ময়কর সমন্বিত ব্যবস্থা। কম আলোতে দেখার উপযোগী চোখ, সংবেদনশীল শ্রবণশক্তি, শব্দের অবস্থান নির্ণয়ের ক্ষমতা এবং তুলনামূলক নিঃশব্দে উড়তে সহায়ক পালক তাকে অন্ধকারে শিকার খুঁজে পেতে সাহায্য করে।চোখ ও কান থেকে পাওয়া তথ্য মস্তিষ্কে পৌঁছায় এবং সেখানে প্রক্রিয়াকরণের পর ডানা ও পায়ের নড়াচড়ার সঙ্গে সমন্বয় ঘটে। ফলে পেঁচা অন্ধকারেও শিকারের অবস্থান শনাক্ত করে তার দিকে দ্রুত ও নিয়ন্ত্রিতভাবে এগিয়ে যেতে পারে।

💎 সুবহানাল্লাহ!

রাতের অন্ধকারে আমরা যেখানে একটি ছোট প্রাণীর উপস্থিতিও বুঝতে পারি না, সেখানে পেঁচা স্বল্প আলো ও ক্ষীণ শব্দ কাজে লাগিয়ে শিকার শনাক্ত করতে পারে। একই অন্ধকার মানুষের দৃষ্টিকে সীমিত করে দেয়, অথচ সেই অন্ধকারেই পেঁচার চোখ, কান, মস্তিষ্ক ও ডানা সমন্বিতভাবে কাজ করে তার জীবনধারণে সহায়তা করে।

পেঁচার রাতের দৃষ্টি, সংবেদনশীল শ্রবণশক্তি এবং অন্ধকারে শিকার শনাক্ত করার এই বিস্ময়কর ব্যবস্থা মহান আল্লাহর কুদরত, জ্ঞান ও প্রজ্ঞার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। আসুন, পাখিদের জীবন ও তাদের অসাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলোর দিকে মনোযোগ দিয়ে দেখি এবং মহান আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে ছড়িয়ে থাকা নিদর্শনগুলো নিয়ে চিন্তা করি। আমাদের চারপাশের প্রতিটি সৃষ্টি যেন আমাদের স্রষ্টার অসীম জ্ঞান ও কুদরত উপলব্ধি করার একটি সুযোগ হয়ে ওঠে।