Skip to main content

463 | চোখ

চোখ — মহান আল্লাহর সৃষ্টির এক বিস্ময়কর ব্যবস্থা


আমরা চোখ খুললেই মুহূর্তের মধ্যে চারপাশের মানুষ, গাছপালা, আকাশ, রং, আকার ও অসংখ্য বস্তু দেখতে পাই। কিন্তু আমরা যাকে এত সহজে “দেখা” বলি, তার পেছনে চোখ ও মস্তিষ্কের রয়েছে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও সমন্বিত এক ব্যবস্থা।

কোনো বস্তুকে দেখার জন্য প্রথমে সেই বস্তু থেকে প্রতিফলিত আলো আমাদের চোখে প্রবেশ করে। আলো প্রথমে চোখের স্বচ্ছ সামনের অংশ কর্নিয়া দিয়ে প্রবেশ করে এবং এরপর পিউপিল বা চোখের মণির মধ্য দিয়ে ভেতরে যায়।

চোখের আইরিস পিউপিলের আকার পরিবর্তন করে চোখে কতটা আলো প্রবেশ করবে তা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। উজ্জ্বল আলোতে পিউপিল ছোট হয়, আর কম আলোতে বড় হয়। এরপর চোখের লেন্স আলোকরশ্মিকে সঠিকভাবে ফোকাস করে চোখের পেছনের সংবেদনশীল স্তর রেটিনায় পৌঁছে দেয়। রেটিনায় থাকা বিশেষ আলোকসংবেদনশীল কোষ আলোকে শনাক্ত করে এবং সেই তথ্যকে স্নায়বিক বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করে। এই সংকেত অপটিক নার্ভের মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছে যায়।

মস্তিষ্ক সেই সংকেতগুলো প্রক্রিয়াকরণ করে। এর ফলেই আমরা বুঝতে পারি সামনে কী আছে, তার আকার কেমন, রং কী, সেটি কোথায় অবস্থান করছে এবং আমরা কী দেখছি। অর্থাৎ আমরা একটি দৃশ্য দেখার সময় চোখ শুধু আলো গ্রহণ করে না। চোখ আলোকে স্নায়বিক তথ্যে রূপান্তর করে মস্তিষ্কে পাঠায়, আর মস্তিষ্ক সেই তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করে আমাদের দৃশ্য উপলব্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি ঘটে অত্যন্ত দ্রুত। অথচ প্রতিদিন অসংখ্যবার দেখার সময় আমরা এর ভেতরে চলতে থাকা এত জটিল কার্যক্রমের কথা হয়তো একবারও ভাবি না।


চোখের আলো গ্রহণ, ফোকাস করা, রেটিনায় তা শনাক্ত করা, স্নায়বিক সংকেতে রূপান্তর এবং সেই তথ্য মস্তিষ্কে পৌঁছে দৃশ্য উপলব্ধির এই বিস্ময়কর সমন্বিত ব্যবস্থা কি মহান আল্লাহর অসীম জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও কুদরত নিয়ে গভীরভাবে ভাবার আহ্বান জানায় না?

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:​

সূরা আন-নাহল, ১৬:৭৮

  • “আর আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মাতৃগর্ভ থেকে বের করেছেন এমন অবস্থায় যে, তোমরা কিছুই জানতে না; আর তিনি তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও হৃদয়, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হও।”

➡️ এই আয়াতে মহান আল্লাহ আমাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তির নেয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন এবং এর জন্য কৃতজ্ঞ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আমাদের চোখের কর্নিয়া, পিউপিল, লেন্স, রেটিনা ও অপটিক নার্ভ এবং মস্তিষ্কের দৃষ্টিসংশ্লিষ্ট অংশগুলোর সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা চারপাশের জগৎ দেখতে ও উপলব্ধি করতে পারি।

💎 সুবহানাল্লাহ!

চোখের মাধ্যমে আমরা প্রতিদিন অসংখ্য দৃশ্য দেখি—প্রিয় মানুষের মুখ, ফুলের রং, আকাশের বিশালতা, সবুজ গাছপালা কিংবা চারপাশের পৃথিবী। কিন্তু প্রতিটি দৃশ্য দেখার পেছনে আলো গ্রহণ, ফোকাস করা, রেটিনায় সংকেত তৈরি, অপটিক নার্ভের মাধ্যমে তথ্য পৌঁছানো এবং মস্তিষ্কের সেই তথ্য প্রক্রিয়াকরণের এক বিস্ময়কর সমন্বয় কাজ করে। এই সূক্ষ্ম ব্যবস্থা আমাদের মহান আল্লাহর অসীম জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও কুদরতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
আসুন, প্রতিদিনের দেখা দৃশ্যগুলোকে আর সাধারণভাবে না দেখে একটু গভীরভাবে চিন্তা করি। মহান আল্লাহ আমাদের যে দৃষ্টিশক্তি দিয়েছেন, তার জন্য কৃতজ্ঞ হই এবং এই চোখকে সত্য, সুন্দর ও কল্যাণকর বিষয় দেখার কাজে ব্যবহার করি। 🤲