Skip to main content

527 | শয়তান (Satan)

শয়তান যেভাবে মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে দূরে সরায়
How Satan Leads People Away from Allahr


মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় বিপদগুলোর একটি হলো—শয়তানের প্রতারণায় পড়ে মহান আল্লাহকে ভুলে যাওয়া।
আমরা প্রতিদিন কত কিছু নিয়ে ব্যস্ত থাকি—অর্থ উপার্জন, বাড়ি, গাড়ি, পরিবার, সন্তান, চাকরি, ব্যবসা এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা।
এসব অর্জনের পেছনে ছুটতে ছুটতে কখনো কখনো আমরা ভুলে যাই, আমাদের এই জীবন চিরস্থায়ী নয়। একদিন আমাদের সবাইকে মহান আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে।
কিন্তু শয়তান চায় মানুষ যেন এই সত্য ভুলে থাকে। সে মানুষকে নানা ধরনের মিথ্যা আশা দেখায়।
কখনো মনে করিয়ে দেয়, এখনো অনেক সময় আছে, পরে নামাজ পড়ব, পরে তওবা করব, পরে ভালো মানুষ হব।
আবার কখনো আল্লাহর অসীম ক্ষমা ও দয়ার কথা এমনভাবে মনে করিয়ে দেয়, যেন পাপ করতে থাকলেও কোনো সমস্যা নেই।
এভাবেই মানুষ ধীরে ধীরে আল্লাহর স্মরণ ও তাঁর নির্দেশনা থেকে দূরে সরে যেতে পারে।


🔹 আল্লাহ পবিত্র কুরআনে আমাদের সতর্ক করেছেন

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:​

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

সূরা লুকমান (৩১:৩৩)
“হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর এবং সেদিনকে ভয় কর, যেদিন পিতা সন্তানের কোনো উপকারে আসবে না এবং সন্তানও তার পিতার কোনো উপকারে আসবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য। সুতরাং পার্থিব জীবন যেন তোমাদের কিছুতেই প্রতারিত না করে এবং শয়তান যেন কিছুতেই আল্লাহ সম্পর্কে তোমাদের ধোঁকায় না ফেলে।”

এই আয়াতে আল্লাহ আমাদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

🔸 ১. আল্লাহকে ভয় করা এবং তাঁর নির্দেশনা মেনে চল

➡️ আল্লাহ আমাদের তাঁর প্রতি তাকওয়া অবলম্বন করতে বলেছেন। অর্থাৎ জীবনের প্রতিটি কাজে তাঁকে স্মরণ করা, তাঁর আদেশ পালন করা এবং নিষিদ্ধ কাজ থেকে দূরে থাকা।

🔸 ২. কিয়ামতের দিনের কথা স্মরণ করা

➡️ সেদিন পিতা সন্তানের কোনো উপকার করতে পারবেন না এবং সন্তানও পিতার কোনো উপকার করতে পারবে না। প্রত্যেক মানুষকে নিজের কর্মের হিসাব দিতে হবে।
পৃথিবীতে আমরা পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও প্রিয়জনদের ওপর নির্ভর করি। কিন্তু আখিরাতের বিচারের দিনে প্রত্যেকের নিজের দায়িত্ব ও জবাবদিহি রয়েছে।

🔸 ৩. পার্থিব জীবন যেন আমাদের প্রতারিত না করে

➡️ দুনিয়ার জীবন খুবই আকর্ষণীয়। অর্থ, সম্পদ, বাড়ি, গাড়ি, পদমর্যাদা ও আনন্দের পেছনে ছুটতে গিয়ে আমরা কখনো কখনো ভুলে যাই যে, এই জীবন একদিন শেষ হয়ে যাবে।
দুনিয়ার সম্পদ অর্জন করা দোষের নয়; কিন্তু সেই সম্পদের মোহে আল্লাহর নির্দেশনা ভুলে যাওয়াই বিপদের কারণ।

🔸 ৪. আল্লাহ সম্পর্কে শয়তানের প্রতারণা থেকে সাবধান থাকা

➡️ এটি এই আয়াতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবাণী। শয়তান মানুষকে বিভিন্নভাবে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করে।

কখনো সে মনে করায়—

  • তুমি এখনো তরুণ, পরে ইবাদত করবে।
  • জীবনে অনেক সময় বাকি আছে, পরে তওবা করবে।
  • আল্লাহ তো ক্ষমাশীল, তাই পাপ করলেও সমস্যা নেই।
  • তুমি এত পাপ করেছ, আল্লাহ হয়তো তোমাকে ক্ষমা করবেন না।

এগুলো শয়তানের প্রতারণার বিভিন্ন রূপ।

আল্লাহ অবশ্যই পরম ক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু। কিন্তু তাঁর রহমতের ওপর ভরসা করার অর্থ এই নয় যে, আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে পাপ করতে থাকব।
আবার অতীতের পাপের কারণে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়াও উচিত নয়। বরং আন্তরিকভাবে তওবা করে তাঁর দিকে ফিরে আসতে হবে।


📍 একটু নিজের জীবন নিয়ে ভাবুন -

আমি জীবনে কত বছর পার করে দিয়েছি!
কত পরিকল্পনা করেছি, কত সম্পদ অর্জন করেছি, কত স্বপ্ন পূরণ করেছি!

কিন্তু কখনো কি নিজেকে প্রশ্ন করেছি—

  • আমি কি নিয়মিত আল্লাহকে স্মরণ করি?
  • আমার উপার্জন কি হালাল?
  • আমি কি অন্যের অধিকার রক্ষা করি?
  • আমার কথাবার্তা ও কাজকর্মে কি আল্লাহ সন্তুষ্ট?
  • আজ যদি আমার জীবনের শেষ দিন হয়, তাহলে কি আমি আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর জন্য প্রস্তুত?

আমরা কেউ জানি না আমাদের জীবনের শেষ দিন কখন আসবে।
তাই তওবা, ইবাদত ও ভালো কাজের জন্য আগামীকালের অপেক্ষা করা উচিত নয়।
আজই আল্লাহর দিকে ফিরে আসার সময়।


🌸 ভাই ও বোনেরা,

মনে রাখবেন, শয়তান আমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু। সে চায় আমরা যেন আল্লাহকে ভুলে যাই, তাঁর রহমত সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণ করি এবং তওবা ও ভালো কাজ পিছিয়ে দিতে থাকি।
তাই শয়তানের প্রতারণায় কখনো বিভ্রান্ত হবেন না।
আল্লাহর রহমতের আশা রাখুন, তাঁর নির্দেশনা মেনে চলুন এবং প্রতিদিন তাঁর সন্তুষ্টির পথে জীবন পরিচালনা করার চেষ্টা করুন।


🤲 হে মহান আল্লাহ, আমাদের শয়তানের প্রতারণা থেকে রক্ষা করুন। দুনিয়ার মোহে যেন আমরা আখিরাতকে ভুলে না যাই। আমাদের ভুলত্রুটি ক্ষমা করুন এবং আপনার সন্তুষ্টির পথে জীবন পরিচালনা করার তাওফিক দান করুন। আমিন। 🤲


♥️ সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর, যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং অসংখ্য নিয়ামত দান করেছেন।


Ask | প্রশ্ন করুন