467 | মাছের ফুলকা
মাছের ফুলকা — পানির নিচে শ্বাস নেওয়ার মহান আল্লাহর সৃষ্ট এক বিস্ময়কর ব্যবস্থা
মানুষ পানির নিচে দীর্ঘ সময় শ্বাস নিতে পারে না, কারণ আমাদের ফুসফুস বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণের উপযোগী। অথচ মাছ সারাজীবন পানির নিচে থেকেও প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সংগ্রহ করতে পারে।
কীভাবে?
পানির মধ্যেও দ্রবীভূত অক্সিজেন থাকে। মাছের শরীরে রয়েছে বিশেষ শ্বাসযন্ত্র, যাকে আমরা ফুলকা বা Gills বলি। এই ফুলকাই মাছকে পানি থেকে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সংগ্রহ করতে সাহায্য করে। মাছ সাধারণত মুখ দিয়ে পানি গ্রহণ করে। সেই পানি ফুলকার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ফুলকার ভেতরে রয়েছে অসংখ্য সূক্ষ্ম গঠন এবং ক্ষুদ্র রক্তনালি, যা পানি ও রক্তের মধ্যে গ্যাসের আদান-প্রদানের জন্য বড় কার্যকর ক্ষেত্র তৈরি করে।
পানি যখন ফুলকার সূক্ষ্ম পৃষ্ঠের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, তখন পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন ফুলকার পাতলা আবরণ অতিক্রম করে রক্তে প্রবেশ করে। একই সময়ে মাছের রক্তে থাকা কার্বন ডাই-অক্সাইড রক্ত থেকে পানিতে চলে যায় এবং পানির সঙ্গে শরীরের বাইরে বেরিয়ে যায়। অর্থাৎ মাছ নিজে শ্বাস নেয় না, বরং পানির মধ্যে দ্রবীভূত অক্সিজেন সংগ্রহ করে।
ভাবুন, আমরা যে পানিকে শুধু পানীয় বা তরল হিসেবে দেখি, সেই পানির মধ্যেই থাকা অক্সিজেন সংগ্রহ করে মাছ তার জীবনধারণ করছে। মাছের ফুলকা তাই শুধু একটি অঙ্গ নয়, পানির নিচে জীবনধারণের উপযোগী অত্যন্ত কার্যকর এক শ্বাসযন্ত্র।
পানির মধ্যে দ্রবীভূত অক্সিজেন গ্রহণ, তা রক্তে পৌঁছে দেওয়া এবং একই সঙ্গে কার্বন ডাই-অক্সাইড শরীর থেকে বের করে দেওয়ার এই সূক্ষ্ম ব্যবস্থা কি মহান আল্লাহর অসীম জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও কুদরত নিয়ে গভীরভাবে ভাবার আহ্বান জানায় না?পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:
সূরা আন-নূর, ২৪:৪৫
- “আল্লাহ প্রত্যেক জীবকে পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ পেটের ওপর ভর করে চলে, কেউ দুই পায়ে চলে এবং কেউ চার পায়ে চলে। আল্লাহ যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছুর ওপর সর্বশক্তিমান।”
➡️ এই আয়াতটি মাছের ফুলকার শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রমের সরাসরি বর্ণনা নয়। বরং মহান আল্লাহ জীবজগতের সৃষ্টি ও বৈচিত্র্যের প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রাণীকে দেখলে আমরা দেখি, তাদের নিজ নিজ পরিবেশে জীবনধারণের জন্য রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও ব্যবস্থা।
মানুষের ফুসফুস বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে, আর মাছের ফুলকা পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন গ্রহণের উপযোগী। ফুলকার সূক্ষ্ম গঠন, রক্তনালির বিন্যাস এবং পানি ও রক্তের মধ্যে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের আদান-প্রদান মাছকে পানির নিচে জীবনধারণের সুযোগ দেয়। একই পৃথিবীতে জীবন, অথচ পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কত বৈচিত্র্যময় তার ব্যবস্থা!
💎 সুবহানাল্লাহ!
মাছের ফুলকা নিয়ে একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে বোঝা যায়, পানির নিচে জীবনধারণের জন্য কত সূক্ষ্ম ও কার্যকর একটি ব্যবস্থা রয়েছে। পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন সংগ্রহ করা, তা রক্তে পৌঁছে দেওয়া এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বের করে দেওয়ার এই বিস্ময়কর সমন্বয় আমাদের মহান আল্লাহর অসীম জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও কুদরতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। আসুন, আমাদের চারপাশের সৃষ্টিজগতের দিকে মনোযোগ দিয়ে তাকাই, এর নিদর্শনগুলো নিয়ে চিন্তা করি এবং মহান আল্লাহর দেওয়া অসংখ্য নেয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞ হই। 🤲