Skip to main content

477 | জীবনের জন্য পৃথিবীর সুষম ব্যবস্থা (Earth’s Delicate Balance for Life)

জীবনের জন্য পৃথিবীর সুষম ব্যবস্থা — মহান আল্লাহর অসীম জ্ঞান ও প্রজ্ঞা


আমরা প্রতিদিন পৃথিবীর ওপর দিয়ে চলাফেরা করি, পাহাড় দেখি, গাছপালা ও ফসলের বৃদ্ধি দেখি, বৃষ্টির পানি পান করি এবং নানা উৎস থেকে খাবার সংগ্রহ করি। এসব বিষয় আমাদের কাছে স্বাভাবিক মনে হলেও, এগুলোর পেছনে রয়েছে পরস্পর সম্পর্কযুক্ত বহু প্রাকৃতিক ব্যবস্থা, যা মানুষের জীবনধারণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মানুষ খাদ্য উৎপাদন করে, কিন্তু সেই খাদ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় মাটি, পানি, বায়ু ও সূর্যালোক সে নিজে সৃষ্টি করেনি। একটি বীজ উপযুক্ত পরিবেশে অঙ্কুরিত হয়। উদ্ভিদের শিকড় মাটি থেকে পানি ও খনিজ পদার্থ গ্রহণ করে, আর পাতা সূর্যালোকের সাহায্যে Photosynthesis বা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করে। এভাবেই উদ্ভিদ বেড়ে ওঠে এবং মানুষসহ অসংখ্য প্রাণীর খাদ্যের উৎস হয়ে ওঠে।

পানিও আমাদের জীবনের অপরিহার্য উপাদান। সূর্যের তাপে সমুদ্র, নদী ও অন্যান্য জলাশয় থেকে পানি বাষ্পীভূত হয়। বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে মেঘ তৈরি করে এবং উপযুক্ত পরিবেশে বৃষ্টি হিসেবে পৃথিবীতে ফিরে আসে। এই Water Cycle বা পানিচক্র নদী, হ্রদ, মাটি ও ভূগর্ভস্থ পানির ভান্ডারকে পুনরায় পূরণ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

পৃথিবীর ভূমিরূপ, পানি, উদ্ভিদ ও জীবজগতের এই পারস্পরিক সম্পর্ক আমাদের অস্তিত্ব ও জীবিকার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। এসব বিষয় নিয়ে চিন্তা করলে উপলব্ধি করা যায়, মানুষের জ্ঞান ও প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, সে একা জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুর স্রষ্টা বা নিয়ন্ত্রক নয়।

পৃথিবীর এই ব্যবস্থা, জীবিকার বিস্তৃত উৎস এবং জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ামতগুলো কি আমাদের মহান স্রষ্টার অসীম জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও কুদরত নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে অনুপ্রাণিত করে না?

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:​

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

সূরা আল-হিজর, ১৫:১৯–২৩

  • আয়াত ১৯: “পৃথিবীকে আমি বিস্তৃত করেছি এবং ওতে পর্বতমালা স্থাপন করেছি; আমি ওতে প্রত্যেক বস্তু উৎপন্ন করেছি সুপরিমিতভাবে।”
  • আয়াত ২০: “আর আমি ওতে জীবিকার ব্যবস্থা করেছি তোমাদের জন্য, আর তোমরা যাদের জীবিকাদাতা নও তাদের জন্যও।”
  • আয়াত ২১: “আর প্রতিটি বস্তুরই ভান্ডারসমূহ রয়েছে আমার কাছে এবং আমি তা অবতীর্ণ করি কেবল নির্দিষ্ট পরিমাণে।”
  • আয়াত ২২: “আমি বৃষ্টিগর্ভ বায়ু প্রেরণ করি অতঃপর আকাশ হতে বৃষ্টি বর্ষণ করি এবং তা তোমাদেরকে পান করাই এবং ওর ভান্ডার তোমাদের কাছে নেই।”
  • আয়াত ২৩: “নিশ্চয় আমিই জীবন দান করি ও মৃত্যু ঘটাই এবং আমিই চূড়ান্ত মালিকানার অধিকারী।”

➡️ এই আয়াতগুলোতে মহান আল্লাহ পৃথিবীর গঠন, জীবিকার ব্যবস্থা, সম্পদের ভান্ডার, বৃষ্টিপাত এবং জীবন-মৃত্যুর ওপর তাঁর চূড়ান্ত কর্তৃত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

🔸পৃথিবীর গঠন ও পরিমিত ব্যবস্থা:

পৃথিবীর ভূমিরূপ, মাটি, পানি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদান জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পাহাড় ও পর্বতমালা পৃথিবীর ভূপ্রকৃতির অংশ এবং বিভিন্ন অঞ্চলের পানি ও পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলে। আয়াতটি পৃথিবী ও তার সৃষ্টিব্যবস্থা নিয়ে চিন্তা করতে আহ্বান জানায়।

🔸জীবিকার বিস্তৃত ব্যবস্থা:

মানুষ ছাড়াও অসংখ্য প্রাণী খাদ্য, পানি ও আশ্রয়ের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে। উদ্ভিদ, ফলমূল, বীজ এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ এই জীবজগতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আয়াতটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, জীবিকার ব্যবস্থা শুধু মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

🔸সম্পদের ভান্ডার ও পরিমিত বণ্টন: মানুষের প্রয়োজনীয় সম্পদ থাকলেও সেগুলোর প্রাপ্যতা ও ব্যবহার সীমাহীন নয়। পানি, উর্বর মাটি এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই আয়াত আমাদের আল্লাহর সৃষ্টির ওপর নির্ভরশীলতা উপলব্ধি করতে এবং অপচয় থেকে বিরত থাকতে অনুপ্রাণিত করে।

🔸বৃষ্টি ও পানির নিয়ামত:

বৃষ্টির পানি কৃষিকাজ, উদ্ভিদের বৃদ্ধি এবং মিঠাপানির সরবরাহ বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মানুষ পানি সংগ্রহ ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে পারে, কিন্তু বৃষ্টিপাতের সমগ্র প্রাকৃতিক ব্যবস্থাকে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে না। তাই পানি আমাদের জন্য এক অমূল্য নিয়ামত।

🔸জীবন ও মৃত্যুর মালিকানা:

শেষ আয়াতে মহান আল্লাহ জানিয়েছেন, তিনিই জীবন দান করেন, মৃত্যু ঘটান এবং চূড়ান্ত মালিকানার অধিকারী। মানুষের জ্ঞান ও সামর্থ্য সীমিত। তাই জীবনের মূল্য উপলব্ধি করা, সৎকর্ম করা এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

💎 সুবহানাল্লাহ!

➡️ এই আয়াতগুলো আমাদের পৃথিবী, জীবিকা ও জীবনের নিয়ামতগুলো নিয়ে চিন্তা করতে এবং মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হতে শিক্ষা দেয়।


আমরা প্রতিদিন যে খাবার খাই, যে পানি পান করি এবং যে প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করি, সেগুলোর গুরুত্ব অনেক সময় উপলব্ধি করি না। অথচ এগুলো ছাড়া আমাদের জীবনধারণ কঠিন। তাই এসব নিয়ামতের যথাযথ ব্যবহার করা, পানির অপচয় রোধ করা, পরিবেশ দূষণ কমানো এবং অন্যান্য জীবের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করা আমাদের কর্তব্য।

আসুন, মহান আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতগুলোর মূল্য উপলব্ধি করি এবং কৃতজ্ঞতার সঙ্গে জীবন পরিচালনা করি। হে আল্লাহ, আমাদের ঈমান দৃঢ় করুন, আপনার নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞ থাকার এবং আপনার সন্তুষ্টির পথে জীবন পরিচালনার তাওফিক দিন। আমিন। 🤲

♥️ সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর, যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং অসংখ্য নিয়ামত দান করেছেন।


Ask | প্রশ্ন করুন