Skip to main content

464 | পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণীর রিযিক

পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণীর রিযিক — মহান আল্লাহর অসীম জ্ঞান ও ব্যবস্থাপনার নিদর্শন


বিশাল পৃথিবীর দিকে তাকালে আমরা দেখি অসংখ্য জীবের বিচরণ। আকাশে পাখি উড়ে, সমুদ্রে মাছ সাঁতার কাটে, গভীর অরণ্যে নানা প্রাণী বাস করে, মাটির নিচে অসংখ্য ক্ষুদ্র জীব জীবন ধারণ করে। এমনকি মানুষের চোখের আড়ালে থাকা দুর্গম পাহাড়, মরুভূমি কিংবা গভীর সমুদ্রেও রয়েছে জীবনের বিস্ময়কর বৈচিত্র্য। প্রতিটি জীবেরই বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য, পানি ও উপযুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন। কিন্তু তাদের জীবনধারণের পদ্ধতি এক নয়।

কোনো প্রাণী উদ্ভিদ খেয়ে বেঁচে থাকে, কোনোটি অন্য প্রাণীকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। পাখি কখনো ফল, বীজ কিংবা ছোট জীব খুঁজে নেয়। সমুদ্রের প্রাণীরা তাদের পরিবেশে বিভিন্ন উৎস থেকে খাদ্য সংগ্রহ করে। আবার উদ্ভিদ মাটি থেকে পানি ও খনিজ উপাদান গ্রহণ করে এবং সূর্যের আলোর শক্তি ব্যবহার করে সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে নিজের প্রয়োজনীয় শর্করা তৈরি করে। প্রকৃতিতে এভাবেই সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খাদ্যসম্পর্ক ও পারস্পরিক নির্ভরতা।

একটি ক্ষুদ্র পোকা কোথায় খাদ্য খুঁজে পাবে, একটি পাখি কোথায় আশ্রয় নেবে, সমুদ্রের কোনো প্রাণী কোথায় বিচরণ করবে, কিংবা মাটির নিচে থাকা ক্ষুদ্র জীব কীভাবে টিকে থাকবে, মানুষের পক্ষে পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণীর এই জীবনব্যবস্থা সম্পর্কে জানা সম্ভব নয়। কিন্তু মহান আল্লাহর জ্ঞানের বাইরে তাদের কেউই নয়।

পৃথিবীর অগণিত প্রাণীর বাসস্থান, চলাফেরা, প্রয়োজন এবং তাদের রিযিক সম্পর্কে মহান আল্লাহ সম্পূর্ণ অবগত। কোনো প্রাণী তাঁর জ্ঞানের বাইরে নয় এবং কোনো প্রাণীর জীবনধারণের প্রয়োজনও তাঁর কাছে অজানা নয়।


পৃথিবীর অগণিত জীব, তাদের ভিন্ন ভিন্ন বাসস্থান এবং প্রত্যেকের জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় রিযিকের এই বিশাল ব্যবস্থা কি মহান আল্লাহর অসীম জ্ঞান, কুদরত ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে গভীরভাবে ভাবার আহ্বান জানায় না?

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:​

সূরা হুদ, ১১:৬

  • “যমীনে বিচরণশীল এমন কোনো জীব নেই, যার জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহর উপর নেই। তিনি জানেন তাদের থাকার জায়গা কোথায় এবং কোথায় তাদেরকে রাখা হয়। সব কিছুই আছে সুস্পষ্ট লিপিকায়।”

➡️ এই আয়াত আমাদের সামনে মহান আল্লাহর অসীম জ্ঞান ও তাঁর সৃষ্টির প্রতি ব্যবস্থাপনার এক গভীর বাস্তবতা তুলে ধরে। পৃথিবীতে কত প্রাণী রয়েছে, তারা কোথায় বাস করে, কোথায় তাদের রিযিক রয়েছে, মানুষ তার সামান্য অংশই জানে। অথচ মহান আল্লাহ প্রতিটি প্রাণীর অবস্থান ও রিযিক সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত। একটি ছোট্ট পাখি হয়তো সকালে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়, কিন্তু তার খাবার কোথায় রয়েছে সে আগে থেকে জানে না। একটি ক্ষুদ্র পোকা হয়তো মাটির নিচে জীবনযাপন করছে, যেখানে মানুষের দৃষ্টি পৌঁছায় না। গভীর সমুদ্রে এমন প্রাণীও রয়েছে, যাদের জীবন মানুষের দৈনন্দিন চোখের সম্পূর্ণ আড়ালে। তবু তাদের কেউ মহান আল্লাহর জ্ঞানের বাইরে নয়।

এই আয়াত তাই আমাদের শুধু প্রাণীদের রিযিকের কথা বলে না, বরং মহান আল্লাহর সর্বব্যাপী জ্ঞান ও সৃষ্টিজগতের ওপর তাঁর পরিপূর্ণ কর্তৃত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। মানুষ যখন নিজের রিযিক নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়, তখন এই আয়াত তাকে মনে করিয়ে দেয়, আমরা সেই মহান আল্লাহর সৃষ্টি, যিনি পৃথিবীর প্রতিটি জীবের রিযিক সম্পর্কে অবগত। তবে এর অর্থ এই নয় যে মানুষ চেষ্টা ছেড়ে দেবে। অন্যান্য জীব যেমন নিজেদের স্বাভাবিক উপায়ে খাদ্যের সন্ধান করে, তেমনি মানুষও হালাল উপায়ে চেষ্টা করবে, পরিশ্রম করবে এবং ফলাফলের জন্য মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রাখবে।

💎 সুবহানাল্লাহ!

পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণীর রিযিকের দিকে একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে বোঝা যায়, আমাদের চারপাশের জীবজগৎ কত বিশাল এবং বৈচিত্র্যময়। আকাশের পাখি থেকে শুরু করে মাটির নিচের ক্ষুদ্র জীব কিংবা গভীর সমুদ্রের অদৃশ্য প্রাণী—প্রতিটি প্রাণীই মহান আল্লাহর জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত। তাদের জীবনধারণের প্রয়োজন, বাসস্থান এবং রিযিক সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণ অবগত।
আমাদের নিজের জীবনেও এই সত্যটি মনে রাখা প্রয়োজন। রিযিকের জন্য আমরা চেষ্টা করব, পরিশ্রম করব, হালাল পথ অনুসরণ করব এবং একই সঙ্গে মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রাখব। কারণ আমাদের রিযিকের মালিক সেই মহান স্রষ্টা, যিনি পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণীর প্রয়োজন সম্পর্কে অবগত।
আসুন, সৃষ্টিজগতের এই অসংখ্য জীবের দিকে একটু মনোযোগ দিয়ে তাকাই, মহান আল্লাহর অসীম জ্ঞান ও রহমতের কথা স্মরণ করি এবং তাঁর দেওয়া রিযিকের জন্য কৃতজ্ঞ হই। 🤲