Skip to main content

526 | আমাদের প্রতিদিনের খাবার (Our Daily Food)

আমাদের প্রতিদিনের খাবার — আল্লাহর অসংখ্য নিয়ামত
Our Daily Food — The Countless Blessings of Allah


আমরা প্রতিদিনের জীবনে কত সাধারণ কাজ করি। বাজারে যাই, ফলমূল ও শাকসবজি কিনি, পছন্দের খাবার বেছে নিই এবং বাড়িতে ফিরে তা খাই। কিন্তু কখনো কি একটু থেমে ভেবেছি—আমাদের বাজারের ঝুড়িতে থাকা এত রকমের খাবার কোথা থেকে এলো? কে সৃষ্টি করলেন এত বৈচিত্র্যময় ফলমূল, শস্য ও শাকসবজি?
একবার বাজারের দিকে তাকিয়ে দেখুন—সবুজ শাক, লাল টমেটো, হলুদ লেবু, কমলা, আপেল, আঙুর, কলা, খেজুর—কত রকমের রং, আকার, গন্ধ ও স্বাদ!
কোনোটি মিষ্টি, কোনোটি টক, কোনোটি রসালো, আবার কোনোটি শক্ত। একই পৃথিবীতে এত বৈচিত্র্য সত্যিই বিস্ময়কর!
আমরা বাজারে গিয়ে দাম দেখি, ভালো-মন্দ বাছাই করি, ব্যাগ ভরি।
কিন্তু এসব খাবার আমাদের কাছে পৌঁছানোর পেছনে যে কত সুন্দর ও সুসমন্বিত ব্যবস্থা রয়েছে, তা নিয়ে খুব কমই চিন্তা করি।

আসুন, পবিত্র কুরআনের আলোকে এই নিয়ামতগুলোর কথা একটু ভাবি।


পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:​

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

🔹 বৃষ্টি থেকে উদ্ভিদ, উদ্ভিদ থেকে ফলমূল

সূরা আল-আন‘আম (৬:৯৯)
“আর তিনিই আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেন। অতঃপর তা দ্বারা আমি সব রকমের উদ্ভিদ উৎপন্ন করি। তারপর তা থেকে সবুজ পাতা উদগত করি, যা থেকে ঘন সন্নিবিষ্ট শস্যদানা উৎপাদন করি। আর খেজুর গাছের মাথি থেকে ঝুলন্ত কাঁদি, আঙুরের বাগান, যায়তুন ও ডালিম উৎপন্ন করি—এগুলোর কিছু দেখতে একই রকম, আবার কিছু ভিন্ন। তোমরা লক্ষ্য করো, যখন এগুলো ফলবান হয় এবং পেকে ওঠে তখন এগুলোর ফলের দিকে। নিশ্চয়ই এতে বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে।”

🌸 একটু ভেবে দেখুন!

আকাশ থেকে বৃষ্টি পড়ে, সেই পানি মাটিতে প্রবেশ করে। বীজ অঙ্কুরিত হয়, ছোট্ট চারা ধীরে ধীরে বড় হয়, গাছে ফুল আসে এবং একসময় ফল ধরে।
একটি বৃষ্টির ফোঁটা থেকে শুরু করে আমাদের খাবারের টেবিলে পৌঁছানো পর্যন্ত কত বিস্ময়কর ব্যবস্থা!
আল্লাহ আমাদের শুধু ফলমূল সৃষ্টি করেই দেননি; বরং সেগুলো জন্মানো, বেড়ে ওঠা এবং পেকে ওঠার জন্যও একটি সুন্দর ব্যবস্থা সৃষ্টি করেছেন।
এই আয়াতে আল্লাহ আমাদের ফলের দিকে তাকাতে এবং সেগুলোর জন্ম ও পরিপক্বতা নিয়ে চিন্তা করতে বলেছেন।

————

🔹 একটি ছোট বীজের মধ্যে ভবিষ্যতের বিশাল সম্ভাবনা

সূরা আল-আন‘আম (৬:৯৫)
“নিশ্চয়ই আল্লাহ শস্যবীজ ও আঁটি বিদীর্ণকারী। তিনিই প্রাণহীন থেকে জীবন্তকে বের করেন এবং জীবন্ত থেকে প্রাণহীনকে বের করেন। তিনিই তো আল্লাহ। সুতরাং তোমরা কোথায় ফিরে যাচ্ছ?”

🌸 একটু ভেবে দেখুন!

আমরা বাজার থেকে একটি আপেল, কমলা কিংবা আম কিনি। ফল খাওয়ার পর তার ভেতরের ছোট্ট বীজটি ফেলে দিই।
কিন্তু সেই বীজের দিকে একটু গভীরভাবে তাকালে কী বিস্ময়কর সম্ভাবনা দেখতে পাই!
উপযুক্ত পরিবেশে একটি ছোট্ট বীজ অঙ্কুরিত হয়ে চারা হয়। সেই চারা বড় হয়ে গাছে পরিণত হয়। একসময় সেই গাছে আবার অসংখ্য ফল ধরে, আর প্রতিটি ফলের মধ্যে থাকে নতুন বীজ।
একটি ছোট্ট বীজ থেকে একটি গাছ, একটি গাছ থেকে অসংখ্য ফল—এ যেন সৃষ্টির এক বিস্ময়কর ধারাবাহিকতা!
মানুষ বীজ বপন করতে পারে, জমিতে পানি দিতে পারে, গাছের পরিচর্যা করতে পারে।
কিন্তু বীজের মধ্যে অঙ্কুরোদ্গমের এই ক্ষমতা এবং জীবনের এই ধারাবাহিক ব্যবস্থা কে সৃষ্টি করেছেন?

তিনি মহান আল্লাহ। আমাদের স্রষ্টা ❤️

————

🔹 একই পানি, অথচ ফলের রং ও স্বাদ কত ভিন্ন!

সূরা আর-রা‘দ (১৩:৪)
“আর পৃথিবীতে রয়েছে পরস্পর সংলগ্ন ভূখণ্ড, আঙুরের বাগান, শস্যক্ষেত্র এবং একই মূল থেকে উদগত ও ভিন্ন ভিন্ন মূল থেকে উদগত খেজুর গাছ। এগুলো একই পানি দ্বারা সিঞ্চিত হয়। আর স্বাদে আমরা এগুলোর কিছু সংখ্যককে কিছু সংখ্যকের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে থাকি। নিশ্চয়ই এতে বোধশক্তিসম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে।”

🌸 একটু ভেবে দেখুন!

একই পৃথিবী, একই সূর্যের আলো, একই পানি—অথচ ফলের বৈচিত্র্য কত অসাধারণ!
একটি ফল মিষ্টি, অন্যটি টক। একটি লাল, অন্যটি সবুজ। কোনোটি ছোট, কোনোটি বড়। কোনো ফলের খোসা পাতলা, আবার কোনো ফলের খোসা পুরু।
বিজ্ঞানের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি, উদ্ভিদের জিনগত বৈশিষ্ট্য, মাটির উপাদান, পানি, সূর্যালোক ও পরিবেশ ফলের রং, স্বাদ, আকার এবং গঠনে ভূমিকা রাখে।
কিন্তু এই উপাদানগুলোর সমন্বয়ে এত বৈচিত্র্যময় উদ্ভিদজগৎ সৃষ্টি করেছেন কে?

আমাদের স্রষ্টা মহান আল্লাহ। ❤️


🔸 প্রতিটি খাবার আমাদের জন্য একটি স্মরণিকা

🌸 সম্মানিত ভাই ও বোনেরা,

আজ আমরা যখন বাজারে যাব, একটি আপেল হাতে নেব, একটি কমলা কিনব কিংবা এক ব্যাগ সবজি নিয়ে বাড়ি ফিরব, তখন একটু চিন্তা করব।
আমরা যে খাবার কিনছি, তা শুধু কিছু ফলমূল বা শাকসবজি নয়। এর পেছনে রয়েছে আল্লাহর সৃষ্টি করা মাটি, পানি, বৃষ্টি, সূর্যালোক, বীজ ও উদ্ভিদের এক বিস্ময়কর ব্যবস্থা।
একটি ফলের মধ্যে রয়েছে বীজ, আর সেই বীজের মধ্যে রয়েছে নতুন একটি গাছের সম্ভাবনা।
আমরা খাবার কিনতে অর্থ ব্যয় করি, কিন্তু এই খাবার উৎপন্ন হওয়ার জন্য আল্লাহ যে অসংখ্য নিয়ামত দিয়েছেন, সেগুলোর মূল্য কি কখনো হিসাব করতে পারব?
তাই প্রতিটি খাবারের জন্য আমাদের মুখ থেকে বের হওয়া উচিত—

💎 আলহামদুলিল্লাহ! হে আল্লাহ, আপনার দেওয়া রিজিকের জন্য আমরা আপনার কাছে কৃতজ্ঞ।

————

🔸 সৃষ্টিকে দেখে স্রষ্টাকে স্মরণ করুন

➡️ আমরা আল্লাহকে চোখে দেখি না, কিন্তু তাঁর সৃষ্টি আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে।
আমরা যখন একটি ফল হাতে নিই, তার রং দেখি, খোসা স্পর্শ করি, ভেতরের বীজ দেখি এবং তার স্বাদ গ্রহণ করি—তখন যেন আমাদের মনে পড়ে যায় মহান স্রষ্টার কথা।
যিনি মাটির নিচে থাকা একটি ছোট্ট বীজ থেকে বিশাল গাছ সৃষ্টি করেন, যিনি আমাদের জন্য অসংখ্য রকমের খাবার ও রিজিকের ব্যবস্থা করেছেন, তাঁর জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও সৃষ্টিশক্তি কত অসীম!
আর যিনি আমাদের জন্য এত সুন্দরভাবে রিজিকের ব্যবস্থা করেছেন, তাঁর কাছেই তো আমাদের জীবনের প্রতিটি প্রয়োজন ও সমস্যার সমাধান চাইতে হবে।
আসুন, আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ কাজগুলোর মধ্যেও আল্লাহর নিদর্শন খুঁজে দেখি।
প্রতিটি খাবার হোক কৃতজ্ঞতার উপলক্ষ, প্রতিটি নিয়ামত হোক আল্লাহকে স্মরণ করার কারণ।


🤲 হে মহান আল্লাহ, আপনার অসংখ্য নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞ হওয়ার, আপনার দেওয়া হালাল রিজিক গ্রহণ করার এবং আপনার সন্তুষ্টির পথে জীবন পরিচালনা করার তাওফিক দান করুন। আমিন। 🤲


♥️ সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর, যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং অসংখ্য নিয়ামত দান করেছেন।


Ask | প্রশ্ন করুন