Skip to main content

474 | রক্তের লোহিত কণিকা

রক্তের লোহিত কণিকা — মহান আল্লাহর শরীরে অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়ার বিস্ময়কর ব্যবস্থা


আমরা প্রতিটি শ্বাসের সঙ্গে বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করি। কিন্তু ফুসফুসে প্রবেশ করা সেই অক্সিজেন কীভাবে মস্তিষ্ক, হৃদপিণ্ড, পেশি এবং শরীরের অসংখ্য কোষে পৌঁছে যায়? এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে রক্তের লোহিত কণিকা বা Red Blood Cell।

লোহিত রক্তকণিকার ভেতরে থাকে হিমোগ্লোবিন নামে বিশেষ এক প্রোটিন। আমরা যখন শ্বাস নিই, বাতাসের অক্সিজেন ফুসফুসের ক্ষুদ্র বায়ুথলি অ্যালভিওলাই পর্যন্ত পৌঁছায়। সেখান থেকে অক্সিজেন অ্যালভিওলাইয়ের পাতলা প্রাচীর অতিক্রম করে পাশের ক্ষুদ্র রক্তনালিতে প্রবেশ করে এবং লোহিত রক্তকণিকার হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে যুক্ত হয়।

এরপর হৃদপিণ্ড রক্তকে সারা শরীরে প্রবাহিত করে। লোহিত রক্তকণিকা রক্তপ্রবাহের সঙ্গে শরীরের বিভিন্ন অংশে পৌঁছে অক্সিজেন সরবরাহে সাহায্য করে। সেই অক্সিজেন শরীরের কোষগুলো তাদের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং শক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করে।

ভাবুন, মস্তিষ্ক কাজ করছে, হৃদপিণ্ড স্পন্দিত হচ্ছে, হাত-পা নড়ছে, পেশি কাজ করছে, এসবের জন্য কোষগুলোর নিরবচ্ছিন্নভাবে অক্সিজেন প্রয়োজন। আর শরীরের রক্তনালির বিশাল নেটওয়ার্কের মধ্য দিয়ে অসংখ্য লোহিত রক্তকণিকা প্রতিনিয়ত সেই অক্সিজেন পরিবহনে ব্যস্ত।

লোহিত রক্তকণিকার গঠনও এই কাজের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। এর আকৃতি সাধারণত দুই পাশ থেকে কিছুটা চাপা গোল চাকতির মতো, যাকে বৈজ্ঞানিকভাবে biconcave disc বলা হয়। এই বিশেষ আকৃতি গ্যাসের আদান-প্রদানের জন্য তুলনামূলক বড় পৃষ্ঠতল তৈরি করতে সাহায্য করে এবং কণিকাগুলোকে সরু কৈশিক রক্তনালির মধ্য দিয়ে চলাচলেও সহায়তা করে।

লোহিত রক্তকণিকা হিমোগ্লোবিনের সাহায্যে ফুসফুস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে শরীরের বিভিন্ন টিস্যুতে পৌঁছে দেয়। অন্যদিকে, কোষের কার্যক্রমে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইড রক্তের মাধ্যমে ফুসফুসে ফিরে আসে এবং শ্বাস ছাড়ার সময় শরীর থেকে বের হয়ে যায়।এভাবে আমাদের প্রতিটি শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুস, হৃদপিণ্ড, রক্তনালি, রক্ত এবং লোহিত রক্তকণিকা সমন্বিতভাবে কাজ করে। এভাবে প্রতিটি শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুস, রক্ত, লোহিত রক্তকণিকা, হিমোগ্লোবিন, হৃদপিণ্ড ও রক্তনালি একসঙ্গে কাজ করে চলেছে।

শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করা অক্সিজেনকে হিমোগ্লোবিনের সাহায্যে বহন করে শরীরের অসংখ্য কোষে পৌঁছে দেওয়ার এই সূক্ষ্ম ও ধারাবাহিক ব্যবস্থা কি মহান আল্লাহর অসীম জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও কুদরত নিয়ে গভীরভাবে ভাবার আহ্বান জানায় না?

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:​

সূরা আল-ইনফিতার, ৮২:৭-৮

  • “যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাকে সুঠাম করেছেন এবং তোমাকে সুষম করেছেন। তিনি যে আকৃতিতে চেয়েছেন, তোমাকে গঠন করেছেন।”

➡️ এই আয়াত লোহিত রক্তকণিকা বা অক্সিজেন পরিবহনের বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার সরাসরি বর্ণনা নয়। বরং মহান আল্লাহ মানুষের সৃষ্টি, গঠন ও সুষমতার দিকে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। মানবদেহের দিকে গভীরভাবে তাকালে আমরা সেই সুষম ও সমন্বিত ব্যবস্থার অসংখ্য উদাহরণ দেখতে পাই। আমরা শুধু শ্বাস নিই। কিন্তু সেই শ্বাসের অক্সিজেন ফুসফুসে পৌঁছানো, রক্তে প্রবেশ করা, হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে যুক্ত হওয়া এবং লোহিত রক্তকণিকার মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন টিস্যুতে পৌঁছে যাওয়ার পেছনে চলছে এক বিস্ময়কর সমন্বিত প্রক্রিয়া। একটি শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করা অক্সিজেনকে শরীরের অসংখ্য কোষে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ফুসফুস, হৃদপিণ্ড, রক্তনালি, লোহিত রক্তকণিকা ও হিমোগ্লোবিনের মধ্যে প্রতিনিয়ত চলছে অসাধারণ সমন্বয়। শরীরের ভেতরে নীরবে প্রবাহিত প্রতিটি লোহিত রক্তকণিকা যেন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, জীবন টিকিয়ে রাখার জন্য মহান আল্লাহ মানবদেহে কত সূক্ষ্ম ও বিস্ময়কর ব্যবস্থা সৃষ্টি করেছেন।

💎 সুবহানাল্লাহ!

লোহিত রক্তকণিকার মাধ্যমে অক্সিজেন পরিবহন এবং শরীরের প্রতিটি অংশে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়ার এই বিস্ময়কর ব্যবস্থা যদি মহান আল্লাহর কুদরত, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা নিয়ে আপনাকে ভাবিয়ে তোলে, তবে আমাদের চারপাশে ও নিজেদের মধ্যে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য সৃষ্টির নিদর্শন নিয়েও একটু থামুন, চিন্তা করুন এবং মহান স্রষ্টা আল্লাহকে আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করার চেষ্টা করুন।