Skip to main content

438 | ঘাম ও শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ

ঘাম ও ত্বকের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ — মহান আল্লাহর সৃষ্টির অনন্য শীতলীকরণ ব্যবস্থা


মানবদেহের ত্বকের নিচে রয়েছে প্রায় ২০ থেকে ৫০ লক্ষ ক্ষুদ্র ঘর্মগ্রন্থি (Sweat Glands)। তীব্র গরম বা শারীরিক পরিশ্রমে যখন শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়, তখন মস্তিষ্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংকেত পাঠিয়ে ত্বকের মাধ্যমে পানি ও সামান্য লবণ নিষ্কাশন করে। এই ঘাম যখন ত্বকের উপরিভাগ থেকে বাষ্পীভূত হয়, তখন তা শরীর থেকে অতিরিক্ত তাপ শুষে নিয়ে দেহকে শীতল ও স্বাভাবিক তাপমাত্রায় (37°C) ফিরিয়ে আনে। এই ব্যবস্থা প্রয়োজন অনুযায়ী সক্রিয় হয়। শরীর বেশি গরম হলে ঘামের উৎপাদন বাড়তে পারে, আবার প্রয়োজন কমে গেলে তা হ্রাস পায়। একই সঙ্গে ত্বকের রক্তনালিগুলোও তাপ নির্গমনে ভূমিকা রাখে। অর্থাৎ মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্র, ঘর্মগ্রন্থি, রক্তনালি ও ত্বক সমন্বিতভাবে দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

এই প্রাকৃতিক শীতলীকরণ ব্যবস্থা ( Evaporative Cooling) কার্যকরভাবে কাজ না করলে প্রচণ্ড গরম বা শারীরিক পরিশ্রমের সময় শরীরে বিপজ্জনকভাবে অতিরিক্ত তাপ জমতে পারে। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঘর্মগ্রন্থি, ত্বক, রক্তসঞ্চালন ও মস্তিষ্কের মধ্যে এমন সূক্ষ্ম সমন্বয়ের মাধ্যমে দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের এই ব্যবস্থা সত্যিই গভীরভাবে ভাবার মতো। মানুষের তৈরি শীতলীকরণ ব্যবস্থার জন্য নানা যন্ত্র ও শক্তির প্রয়োজন হয়। অথচ মানবদেহের ভেতরেই রয়েছে তাপমাত্রার পরিবর্তন শনাক্ত করে প্রয়োজন অনুযায়ী সাড়া দেওয়ার এক বিস্ময়কর জৈবিক ব্যবস্থা।

মানবদেহের এই বিস্ময়কর শীতলীকরণ ব্যবস্থা ও এর সূক্ষ্ম সমন্বয় কি আমাদের মহান স্রষ্টার অসীম জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও কুদরত নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে অনুপ্রাণিত করে না?

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:​

সূরা আল-ইনফিতার, ৮২:৬-৭

  • “হে মানুষ! কিসে তোমাকে তোমার মহা মহিমময় রব সম্পর্কে বিভ্রান্ত করল? যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাকে সুসংগঠিত করেছেন এবং তোমার অবয়ব সুষম করেছেন।”

➡️ এই আয়াত মানুষের সৃষ্টি ও তার সুষম গঠনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মানবদেহে তাপমাত্রার পরিবর্তন শনাক্ত করা এবং মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্র, ত্বক, রক্তনালি ও ঘর্মগ্রন্থির সমন্বয়ে অতিরিক্ত তাপ নিয়ন্ত্রণের যে সূক্ষ্ম ব্যবস্থা রয়েছে, তা মহান আল্লাহর সৃষ্টির প্রজ্ঞা ও কুদরত নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করার সুযোগ সৃষ্টি করে।

💎 সুবহানাল্লাহ!


গরমের দিনে কপালে ঘাম জমা কিংবা পরিশ্রমের পর শরীর ঘামে ভিজে যাওয়াকে আমরা খুব স্বাভাবিক ঘটনা মনে করি। অথচ এর পেছনে রয়েছে এক বিস্ময়কর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা। শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে মস্তিষ্ক ঘর্মগ্রন্থিকে সক্রিয় করে, আর ত্বকের উপরিভাগ থেকে ঘাম বাষ্পীভূত হওয়ার সময় শরীরের তাপ বাইরে নিয়ে যায়। পাশাপাশি ত্বকের রক্তনালির পরিবর্তনও তাপ বের করে দিতে সাহায্য করে। এই সমন্বিত ব্যবস্থা আমাদের শরীরকে অতিরিক্ত গরম হওয়া থেকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিদিন আমাদের অজান্তেই চলতে থাকা এই কার্যক্রম মহান আল্লাহর অসীম জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও কুদরতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

আসুন, শরীরের এমন পরিচিত অথচ বিস্ময়কর ব্যবস্থাগুলো নিয়ে একটু ভাবি। মহান আল্লাহ আমাদের যে জীবন ও সুস্থতা দিয়েছেন, তার জন্য কৃতজ্ঞ হই এবং নিজের শরীরের যত্ন নেওয়ার মাধ্যমে এই অমূল্য নেয়ামতের মর্যাদা রক্ষা করি। 🤲