Skip to main content

471 | পিঁপড়ার সমাজ ও যোগাযোগ

পিঁপড়ার সমাজ ও যোগাযোগ — মহান আল্লাহর সৃষ্ট ক্ষুদ্র প্রাণীর বিস্ময়কর শৃঙ্খলা


পিঁপড়া আমাদের চারপাশে খুব পরিচিত একটি ক্ষুদ্র প্রাণী। কখনো দেখা যায় তারা সারিবদ্ধভাবে খাবারের দিকে যাচ্ছে, কখনো অনেক পিঁপড়া একসঙ্গে খাবার বহন করছে, আবার কেউ ব্যস্ত তাদের বাসার ভেতরে। আকারে এত ছোট হলেও পিঁপড়ার জীবনযাপন ও দলগত কার্যক্রম অত্যন্ত বিস্ময়কর। পিঁপড়া সাধারণত কলোনি বা উপনিবেশে বাস করে। একটি কলোনিতে বিভিন্ন পিঁপড়ার ভূমিকা ভিন্ন হতে পারে। রানী পিঁপড়ার প্রধান ভূমিকা বংশবিস্তার, আর কর্মী পিঁপড়ারা খাবার সংগ্রহ, বাসা রক্ষণাবেক্ষণ, ডিম ও বাচ্চার যত্ন এবং কলোনির বিভিন্ন কাজে অংশ নেয়।

কিন্তু এত ছোট প্রাণী একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করে কীভাবে?

পিঁপড়ার যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো রাসায়নিক সংকেত, যাকে বলা হয় ফেরোমোন (pheromone)। একটি পিঁপড়া খাবারের সন্ধান পেলে ফেরার পথে বিশেষ রাসায়নিক চিহ্ন রেখে যেতে পারে। অন্য পিঁপড়ারা তাদের অ্যান্টেনা বা শুঁড়ের সাহায্যে সেই রাসায়নিক সংকেত শনাক্ত করে খাবারের দিকে যেতে পারে। উপযুক্ত পরিস্থিতিতে অন্য পিঁপড়ারাও একই পথে চলতে থাকলে রাসায়নিক পথটি আরও স্পষ্ট হতে পারে। এ কারণেই আমরা অনেক সময় দেখি, অসংখ্য পিঁপড়া যেন একটি নির্দিষ্ট পথ অনুসরণ করে সারিবদ্ধভাবে চলেছে। পিঁপড়ারা শুধু খাদ্যের অবস্থান সম্পর্কিত সংকেতই ব্যবহার করে না। বিভিন্ন প্রজাতিতে রাসায়নিক সংকেত বিপদের সতর্কতা, কলোনির সদস্য শনাক্তকরণ এবং অন্যান্য সামাজিক আচরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ভাবুন, তাদের কোনো মানচিত্র নেই, রাস্তার চিহ্ন নেই, মানুষের মতো কথাও বলে না। তবুও রাসায়নিক সংকেত, স্পর্শ এবং অন্যান্য সংকেতের মাধ্যমে তারা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং দলগতভাবে বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করে। এখানে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো সমন্বয়। একটি পিঁপড়া অত্যন্ত ক্ষুদ্র। কিন্তু বহু পিঁপড়ার সম্মিলিত কার্যক্রমে খাবার সংগ্রহ, বাসা তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণ, বাচ্চাদের যত্ন এবং কলোনির সুরক্ষার মতো জটিল কাজ সম্ভব হয়।

এত ক্ষুদ্র প্রাণীর মধ্যে যোগাযোগ, কাজের বণ্টন, খাদ্যের পথ অনুসরণ এবং দলগতভাবে একটি উপনিবেশ পরিচালনার এই বিস্ময়কর শৃঙ্খলা কি মহান আল্লাহর অসীম জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও কুদরত নিয়ে গভীরভাবে ভাবার আহ্বান জানায় না?

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:​

সূরা আন-নামল, ২৭:১৮

  • “অবশেষে যখন তারা পিঁপড়ার উপত্যকায় পৌঁছাল, তখন একটি পিঁপড়া বলল, ‘হে পিঁপড়ারা! তোমরা তোমাদের বাসস্থানে প্রবেশ করো, যেন সুলাইমান ও তার সৈন্যবাহিনী অজ্ঞাতসারে তোমাদের পিষে না ফেলে।”

➡️ এই আয়াতে পিঁপড়ার একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ আচরণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একটি পিঁপড়া বিপদের আশঙ্কা বুঝতে পেরে অন্য পিঁপড়াদের সতর্ক করে নিজেদের বাসস্থানে প্রবেশ করতে বলেছিল। আধুনিক গবেষণায় আমরা জানতে পেরেছি যে পিঁপড়ারা বিভিন্ন ধরনের সংকেতের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে। বিশেষ করে রাসায়নিক সংকেত বা ফেরোমোন তাদের সামাজিক জীবন ও যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে কুরআনের এই আয়াতকে পিঁপড়ার ফেরোমোন যোগাযোগের সরাসরি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বরং আয়াতটি আমাদের সামনে পিঁপড়ার যোগাযোগ, সতর্কতা ও সামাজিক আচরণের এক অসাধারণ ঘটনা তুলে ধরে। হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে মানুষ এই আয়াত পড়ে আসছে, আর আজ পিঁপড়ার আচরণ পর্যবেক্ষণ করে আমরা তাদের সুসংগঠিত সামাজিক জীবন ও যোগাযোগের নানা দিক সম্পর্কে আরও জানতে পারছি।

💎 সুবহানাল্লাহ!

✨পিঁপড়ার সুসংগঠিত সমাজ, রাসায়নিক যোগাযোগ, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং একটি ক্ষুদ্র কলোনির বিস্ময়কর শৃঙ্খলা আমাদের গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে। এত ছোট্ট প্রাণীর মধ্যেও এমন সুসমন্বিত ব্যবস্থা মহান আল্লাহর অসীম জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও কুদরতের এক অনন্য নিদর্শন। সৃষ্টির এই ক্ষুদ্র জগতের দিকে একটু মনোযোগ দিয়ে তাকালেই একজন চিন্তাশীল মানুষ মহান স্রষ্টার অসংখ্য নিদর্শন উপলব্ধি করতে পারেন। ✨